স্টাফ রিপোর্টার

রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলার যোগাযোগের অন্যতম প্রধান ধমনী ‘ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে’তে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং গতি নিয়ন্ত্রণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত আধুনিক ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এই প্রযুক্তি চালু হলে এক্সপ্রেসওয়েতে গতিসীমা বা ট্রাফিক আইন অমান্যকারী যানবাহনগুলোর বিরুদ্ধে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা দায়ের করা সম্ভব হবে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) হাইওয়ে পুলিশ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
দুর্ঘটনার প্রধান কারণ ও পরিসংখ্যানে উদ্বেগ
৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এক্সপ্রেসওয়ের মুন্সীগঞ্জ জেলা অংশে পড়েছে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার এলাকা। গতি নিয়ন্ত্রণ না থাকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংকে এ অঞ্চলের সড়ক দুর্ঘটনাগুলোর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বাসসকে জানান, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর ২৫ জুন ২০২২ থেকে ২৫ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত এই এক্সপ্রেসওয়েতে প্রায় ৫৮৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ১৫২ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৯৫০ জন। চালকদের অসচেতনতা, বেপরোয়া ওভারটেকিং ও হঠাৎ ইউটার্ন নেওয়ার প্রবণতাই অধিকাংশ প্রাণহানির মূল কারণ।
সরকারের পদক্ষেপ ও এআই স্পিড এনফোর্সমেন্ট
সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি সম্প্রতি মুন্সীগঞ্জে উন্নয়নকাজ পরিদর্শনকালে জানান, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েকে এআই ক্যামেরার সার্বক্ষণিক নজরদারির আওতায় আনার প্রকল্প ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। জাতীয় মহাসড়কের পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে জেলা ও আঞ্চলিক হাইওয়েগুলোতেও এই প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করা হবে, যাতে সড়ক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরতিহীন শাস্তির আওতায় আনা যায়।
গাজীপুর রিজিয়নের হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, “পুরো এলাকা এআই ক্যামেরার আওতায় আসলে দ্রুত গতিতে গাড়ি চালানো এবং বেপরোয়া ওভারটেকিং পুরোপুরি বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। স্বয়ংক্রিয় মামলা হওয়ার ভয়ে চালকেরা ট্রাফিক আইন মেনে চলতে বাধ্য হবেন, যা সড়কে কাঙ্ক্ষিত শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে।”
সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মমিনুল ইসলাম জানান, সিসি ক্যামেরা ও গতিসীমার নির্দেশক থাকা সত্ত্বেও অসতর্কতার কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। তবে এই এআই প্রযুক্তির আধুনিক সংযোগ দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমিয়ে আনতে সক্ষম হবে বলে আশা করছে প্রশাসন।