স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ

থানায় জিডি করে সুনির্দিষ্টভাবে যাদের নাম উল্লেখ করে নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছিল, মাত্র ৫ দিনের মাথায় তাদের বহনকারী গাড়িতেই বর্বরোচিত হামলা ও হত্যাচেষ্টা চালানো হয়েছে। গত ৭ ডিসেম্বর ভোর পৌনে ৫টায় গাজীপুর সদর থানাধীন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে এই ঘটনা ঘটে।
হামলার শিকার হয়েছেন জুলাই বিপ্লবের নেপথ্য পৃষ্ঠপোষক ও ব্যবসায়ী মো. শহিদুল ইসলাম এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা নাফিউস সুলতান রোহান,মুগ্ধ বোরহান সুলতান ও শামীম আহমেদ। তাদের বহনকারী সাদা রঙের এক্সিও গাড়িটি(ঢাকা মেট্রো-গ ৩৯-৭৬০৬) হামলাকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে।

জিডিতে কি ছিল?
ঘটনার মাত্র কয়েকদিন আগে, গত ২ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন দৈনিক জাহানের সম্পাদক শেখ মেহেদী হাসান নাদিম। জিডির ৬ নম্বর পয়েন্টে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছিলেন যে, বিবাদীরা ছাত্রনেতা নাফিউস সুলতান রোহান, শামীম আহমেদ এবং তাদের পারিবারিক সুহৃদ শহিদুল ইসলাম-কে হুমকি দিচ্ছে। জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছিল, তাদের “কবর থেকে কঙ্কাল উঠিয়ে বিক্রি করা হবে” বলে শাসানো হচ্ছে।

হুবহু মিলল আশঙ্কা
জিডিতে উল্লিখিত সেই আশঙ্কাই সত্য হলো ৭ ডিসেম্বর ভোরে। ঢাকা থেকে ময়মনসিংহে ফেরার পথে গাজীপুরে তাদের গাড়িটির গতিরোধ করে একদল দুর্বৃত্ত। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলাকারীরা কালো কাপড় ও গিয়ার পরিহিত ছিল এবং তাদের অবয়ব প্রশাসনের লোকজনের মতো ছিল। তারা হত্যা করার উদ্দেশ্যেই গাড়ির পেছনের অংশে এবং গ্লাসে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এতে গাড়ির ব্যাক লাইট, লুকিং গ্লাস ও বডি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।


নিরাপত্তাহীনতায় ভুক্তভোগীরা
গাড়িতে থাকা ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আগেই জিডি করেছিলাম। জিডিতে রোহান ও শামীমের নামও ছিল। কিন্তু পুলিশ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় সন্ত্রাসীরা আমাদের নির্জন রাস্তায় একা পেয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে।”
‘জুলাই বিপ্লবের’ সংগঠক রোহান ও শামীম জানান, ২৪ ডিসেম্বরের একটি অন্যায় অভিযানের বিরুদ্ধে সত্য বলায় তাদের ওপর এই খড়গ নেমে এসেছে। প্রশাসনের ছদ্মবেশে এই হামলা প্রমাণ করে ঘটনাটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।
অবিলম্বে হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় ছাত্রনেতারা।

আপরাধীরা যতই শক্তিশালী হোক শাস্তি পেতেই হবে।সকল ষড়যন্ত্রের বেড়াজাল ছিন্ন করে সত্য প্রকাশ পাবেই।
এই উদ্দেশ্যে তোমরা আন্দোলন করেছিলো ?