চুরির অপবাদে কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতন; হাসপাতালে ১৫ ঘণ্টা তালাবদ্ধ রাখার অভিযোগ
মোস্তাফিজার রহমান জাহাঙ্গীর, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

চুরির অপবাদে এক কিশোরকে গাছে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের খবর পাওয়া গেছে। নির্যাতনের পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও সেখানে একটি কক্ষে প্রায় ১৫ ঘণ্টা তালাবদ্ধ করে রাখার অভিযোগ তুলেছেন স্বজনরা। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন ও পুলিশের হস্তক্ষেপ
ভুক্তভোগীর মা ছকিনা বেগম এ ঘটনায় স্থানীয় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে বলা হয়, গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে তাঁর ছেলে সাকিব মিয়াকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর ও নির্মম নির্যাতন করা হয়। ছেলের চিৎকার শুনে মা এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ আছে। পরবর্তীতে ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাকিবকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

হাসপাতালে তালাবদ্ধ রাখার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
পরিবারের দাবি, হাসপাতালে চিকিৎসার নামে সাকিবকে একটি কক্ষে প্রায় ১৫ ঘণ্টা তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। বিষয়টি স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের নজরে এলে তাঁরা হাসপাতালে উপস্থিত হন এবং থানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরবর্তীতে পুলিশের নির্দেশে কর্তব্যরত নার্স কক্ষের তালা খুলে দেন। দায়িত্বরত নার্স জানান, আগের শিফটের দায়িত্বরত ব্যক্তির নির্দেশে তিনি কক্ষটি তালাবদ্ধ রেখেছিলেন।

আইনি পদক্ষেপ ও বর্তমান পরিস্থিতি
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদ হাসান নাঈম জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় বর্তমানে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ এই অমানবিক নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
