চরম তহবিল সংকট: ৮৩ লাখ শরণার্থীর জরুরি সহায়তা বন্ধের ঝুঁকিতে জাতিসংঘ

​দৈনিক জাহান ডেস্ক

স্মরণকালের তীব্র অর্থসংকটে পড়েছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর (UNHCR)। পর্যাপ্ত তহবিলের অভাবে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮৩ লাখ শরণার্থী ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের মৌলিক ও জরুরি মানবিক সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিপন্ন কোটি কোটি মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।

​চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ বরাদ্দও মেলেনি

​জাতিসংঘের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছর (২০২৬) বিশ্বজুড়ে বাস্তুচ্যুতদের সুরক্ষা ও মানবিক কাজে সংস্থাটির প্রয়োজন ছিল ৮৫০ কোটি মার্কিন ডলার। কিন্তু জুলাই মাসের শেষ নাগাদ দাতা দেশগুলো থেকে সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে মাত্র ৩২ শতাংশ বা ২৭০ কোটি ডলার।

​এর আগে ২০২৪ সালে সংস্থাটির হাতে ৫২০ কোটি ডলার থাকলেও ২০২৫ সালে তা একলাফে কমে ৩ ৯০ কোটি ডলারে নেমে আসে। আয়ের বড় ধরনের এই পতনের বিপরীতে বিশ্বে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা কমেনি। ২০২৫ সাল শেষেও বিশ্বে ১১ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত অবস্থায় ছিলেন, যার মধ্যে ৩ কোটি ৫৬ লাখই নিবন্ধিত শরণার্থী।

​সেবা ও শিশু সুরক্ষা কার্যক্রম ধসে পড়ার শঙ্কা

​তহবিলের এই মারাত্মক ঘাটতির প্রভাব ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে:

  • ​চাদ: নিবন্ধন প্রক্রিয়া থমকে যাওয়ায় ৩ লাখ ১৯ হাজার শরণার্থী প্রয়োজনীয় আইনি কাগজপত্র পাচ্ছেন না। একই সঙ্গে অন্তত ২ লাখ ৩৩ হাজার শিশু সব ধরনের সুরক্ষা সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
  • ​ইথিওপিয়া: দেশের বেশ কিছু অঞ্চলে শিশুদের সুরক্ষা সহায়তা কর্মসূচি ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
  • ​সুদান: যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে যৌন নির্যাতনের শিকার হাজার হাজার নারী এবং অতি-ঝুঁকিপূর্ণ শিশুরা তাদের একমাত্র সহায়তার সুযোগ হারাচ্ছে।
  • ​ইরাক ও সিরিয়া: ইরাকে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ শরণার্থী এবং সিরিয়ায় ১ লাখ ৬২ হাজারেরও বেশি বাস্তুচ্যুত ও নিজ দেশে ফিরে আসা মানুষ পুনর্বাসনের প্রাথমিক অর্থ সহায়তা থেকে বঞ্চিত হতে যাচ্ছেন।

​কর্মীদের ২৫ শতাংশ ছাঁটাই ও দাতা দেশের বরাদ্দ হ্রাস

​অর্থসংকটের ভয়াবহতা সামাল দিতে বাধ্য হয়ে ২০২৫ সালে ইউএনএইচসিআর তাদের মোট জনবলের চার ভাগের এক ভাগ বা প্রায় ৫ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করেছে। সংস্থাটির মূল অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ করে আন্তর্জাতিক সাহায্য খাতে বড় ধরনের কাটছাঁট করায় এ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে অন্যান্য ধনী দেশগুলোও তাদের বৈদেশিক অনুদান উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে দিয়েছে।

​ইউএনএইচসিআর-এর বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক প্রধান ডমিনিক হাইড সতর্ক করে বলেন, “মানবিক সুরক্ষার সুযোগ অনির্দিষ্টকালের জন্য কমানো যায় না। একটি নির্দিষ্ট সীমার নিচে নেমে গেলে কেবল কিছু সেবা কমে না, পুরো মানবিক সহায়তার কাঠামোটাই ভেঙে পড়ে। এতে করে মানুষ আগে যে সহিংসতা ও শোষণ থেকে পালিয়ে এসেছিল, আবারও একই নরকীয় পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে।”