খেজুরনামা: এতিমের হক যখন হারামের আগুনে পুড়ছে
জাহিদ হাসান

আজ এক তিক্ত সত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কিছু কথা বলতে চাই। গরিব, এতিম এবং অসহায় মানুষের হকের যাকাতের খেজুর আর উট-দুম্বার মাংস যখন ক্ষমতাশালী ব্যক্তি, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কিংবা তাদের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের পাতে উঠে, তখন আর্তমানবতার কান্না আর আরশের অধিপতির বিচার ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না।
এতিমের হক ও পরকালীন পরিণতি
এতদিন যারা এই এতিমের হক লুট করে নিজের এবং পরিবারের গায়ে রক্ত-মাংস লাগিয়েছেন, তারা কি ভেবে দেখেছেন এই মাংসের প্রতিটি কণা আপনার জন্য জাহান্নামের আগুনকে ত্বরান্বিত করছে? রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— “যে দেহ হারামে গড়ে ওঠে, তার জন্য জাহান্নামই উপযুক্ত।”
পরিবার ও নৈতিকতা
সবচেয়ে অবাক লাগে আপনাদের পরিবার ও সন্তানদের দেখে! আপনাদের স্ত্রী কিংবা সন্তানরা কি একবারও জিজ্ঞেস করেন না— এই যে বিলাসী খাবার বা সম্পদ আপনি ঘরে আনছেন, তা হালাল নাকি হারাম? লোভের বশবর্তী হয়ে শুধু উদরপূর্তি করাই কি জীবনের লক্ষ্য? মনে রাখবেন, পরিবারের সদস্যদের অবহেলা বা প্রশ্রয় আপনাকে পাপে আরও নিমজ্জিত করছে।
ইসলামের হুঁশিয়ারি
কুরআনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে:
“যারা অন্যায়ভাবে এতিমদের ধন-সম্পদ ভক্ষণ করে, তারা আসলে নিজেদের পেটে আগুনই ভর্তি করছে এবং অচিরেই তারা প্রজ্বলিত আগুনে প্রবেশ করবে।” (সূরা আন-নিসা: ১০)
দরিদ্রের হক যারা আত্মসাৎ করে, তারা কেবল দুনিয়াতে নিন্দিত হয় না বরং আখিরাতেও তাদের কঠিন হিসাব দিতে হবে। শুধু তাই নয়, বঞ্চিত মানুষের হক যারা মেরে খায়, তাদের স্ত্রী-সন্তানের ওপর ঐ সকল মানুষের দাবি অথবা দায় বর্তায়। যা সুস্থ মস্তিষ্কে চিন্তা করলে আপনি এখনই একজন সৎ মানুষ হতে বাধ্য হবেন।
অসহায় মানুষের চোখের পানি বৃথা যায় না। যাদের হক আপনি নষ্ট করছেন, পরকালে তাদের পাওনা পরিশোধ না করা পর্যন্ত আপনি এক কদমও এগোতে পারবেন না।
