কুয়াশার ঘোমটা টেনে এল হেমন্ত: নবান্নের আগমনী

কুয়াশামাখা সকালের আলোয় হেমন্তের রং। পাবনা সদরের গাছপাড়ায়ছবি: হাসান মাহমুদ

কাজী আলিম-উজ-জামান, ঢাকা।

অফুরন্ত লাবণ্য আর স্নিগ্ধতার আঁচল বিছিয়ে শরৎ বিদায় নিয়েছে। আজ কার্তিকের প্রথম দিন, হেমন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে কুয়াশার নরম ঘোমটা উঠেছে প্রকৃতির মুখে। কবি সুফিয়া কামালের ভাষায়, “সবুজ পাতার খামের ভেতর/ হলুদ গাঁদা চিঠি লেখে/ কোন্‌ পাথারের ওপার থেকে/ আনল ডেকে হেমন্তকে?”

​হেমন্তের স্পর্শে প্রকৃতি পায় পরিপূর্ণতার সোনারং। এই ঋতু শরৎ ও আসন্ন শীতের মাঝে এক সেতুবন্ধ।

প্রকৃতির রূপ

  • কুয়াশার আমেজ: উত্তরের জনপদে হেমন্তেই যেন শুরু হয়ে গেছে শীতের আমেজ। সন্ধ্যার পর শুরু হয়ে রাতভর হালকা কুয়াশা ঝরছে, যা সকাল আটটা-নটা অবধি থাকছে। রাজধানী ঢাকার বাতাসেও এখন হেমন্তের মিষ্টি আবেশ।
  • শিশির ও শিউলি: সকালবেলায় ঘাসের ডগায় ও শিউলি ফুলের পাপড়িতে জমে থাকা শিশিরকণা প্রথম সূর্যের সোনালি আভায় মুক্তার মতো ঝিকমিক করে ওঠে। রাতভর ঝরে পড়া শিউলির মিষ্টি সুবাসে ভরে থাকে চারপাশ।
  • আকাশ ও রোদ: হেমন্তের আকাশ হয় বড় উদার ও নির্মল নীল। দুপুরের রোদ থাকে শান্ত ও মিষ্টি। দিন ছোট হয়ে আসে, সন্ধ্যা নামে দ্রুতপায়ে।

পাকতে শুরু করেছে আমন ধান। ধান খেতের মাঝে সবজি চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করছেন কৃষি শ্রমিকেরা। কাজ শেষে তাঁরা বাড়ি ফিরছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে পঞ্চগড় সদর উপজেলার গরিনাবাড়ি ইউনিয়নের রজলী খালপাড়া এলাকায়
ছবি: রাজিউর রহমান।

নবান্ন ও প্রাচুর্যের উৎসব

​হেমন্ত মানেই তো ‘নবান্ন’। মাঠজুড়ে এখন শুধু সোনারঙের প্রাচুর্য। দিগন্তবিস্তৃত ধানখেতে পাকা ধানের সোনালি ঢেউ এবং বাতাসে তার মিঠে ঘ্রাণ।

  • কৃষকের হাসি: কৃষকের কঠোর শ্রমের ফসল ঘরে তোলার সময় হয়েছে। কাস্তে হাতে ধান কাটার সুর ধ্বনিত হয় গ্রামজুড়ে।
  • ঘরে ঘরে উৎসব: উঠানজুড়ে নতুন ধানের মাড়াই, নতুন চালের গুঁড়ার ম-ম ঘ্রাণ আর ঘরে ঘরে পিঠাপুলি ও পায়েসের আয়োজন চলে।

মাঠে ঘাটে ফুটে থাকা কাশফুলে এখনো রয়ে গেছে শরতের রেশ। তবে সময়ের পরিক্রমায় শরতের শেষে এসে গেছে হেমন্তকাল। পদ্মাঘাট, পাবনা, সাম্প্রতিক ছবি।
ছবি: হাসান মাহমুদ।

হেমন্ত আসে নীরবে, তার উপস্থিতি বড় লাজুক। সে আমাদের প্রকৃতির পূর্ণতা দেখায়, শীতের আগমনের জন্য প্রস্তুত করে তোলে এবং জীবন ও ফসলের জয়গান শিখিয়ে যায়।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *