রাশিদ আহমেদ নিসর্গ, ময়মনসিংহ

চাকরির নিরাপত্তা, ন্যায্য অধিকার ও সম্মানজনক কর্মজীবনের দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এসডিএফ)-এর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এসডিএফ কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ, ময়মনসিংহ জেলা শাখার আয়োজনে এসডিএফ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৪ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ময়মনসিংহে এক মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
আজ রবিবার (৮ নভেম্বর ২০২৬) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে ময়মনসিংহ জেলা অফিসের সামনে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচির বিস্তারিত
এসডিএফ পরিচালিত আরইএলআই প্রকল্পে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সকল পর্যায়ের জনবলের চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি, চাকরির নিশ্চয়তা ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এসডিএফ কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ, ময়মনসিংহ জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
বক্তাদের বক্তব্য ও এসডিএফ কর্মীদের দাবি
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, এসডিএফের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে গ্রামীণ দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক উন্নয়নে নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। নিজেদের শ্রম, মেধা ও ত্যাগ দিয়ে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে অবদান রাখা এসব কর্মীর ভবিষ্যৎ আজ অনিশ্চয়তার মুখে। কর্মীদের জীবিকা, পরিবার-পরিজন ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন অনিশ্চয়তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা করুণা নয়, আমাদের ন্যায্য অধিকার ও চাকরির নিশ্চয়তা চাই।
৪ দফা দাবি সমূহের বিবরণ
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উত্থাপিত ৪ দফা দাবিগুলো হলো—
১. চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি: অবিলম্বে, অর্থাৎ আগামী ২৮ নভেম্বর ২০২৬-এর পূর্বে চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে।
২. হয়রানি ও চাকরিচ্যুতি বন্ধ: ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধ করতে হবে এবং কোনোভাবেই চাকরিচ্যুত করা যাবে না।
৩. নতুন প্রকল্পে নিয়োগের নিশ্চয়তা: নতুন প্রকল্প বরাদ্দ নিশ্চিত করে বর্তমানে কর্মরত এবং ফেইজ আউট হয়ে যাওয়া সকল (রিলাই/ফিসারিজ) স্টাফকে কোনো ধরনের পরীক্ষা ছাড়াই সরাসরি নিয়োগ দিতে হবে।
৪. দায়িত্বশীল নেতৃত্বের জবাবদিহিতা: উপরোক্ত দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে এসডিএফের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।
আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ও সমাপনী
বক্তারা আরও বলেন, এই আন্দোলন কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থের আন্দোলন নয়; এটি হাজারো কর্মকর্তা-কর্মচারীর কর্মজীবন, পরিবারের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ রক্ষার আন্দোলন। আমরা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নই, বরং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের ন্যায্য অধিকার ও সম্মানজনক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার পক্ষে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত রাখার হুশিয়ারি দেন তারা।