মহাকাশ থেকে দেখা গেল ৮৮৫০ কিমি দীর্ঘ রহস্যময় শৈবাল কাঠামো

আটলান্টিক মহাসাগরফাইল ছবি: রয়টার্স।

প্রযুক্তি ডেস্ক।

মহাকাশে থাকা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা আটলান্টিক মহাসাগরের একটি অসাধারণ ছবি তুলেছেন, যেখানে ৮ হাজার ৮৫০ কিলোমিটারের বেশি এলাকাজুড়ে বাদামি ফিতার মতো একটি কাঠামো দেখা যায়। এই কাঠামোটিকে বিজ্ঞানীরা ‘গ্রেট আটলান্টিক সারগাসাম বেল্ট’ বলে চিহ্নিত করেছেন। এটিই বিশ্বের সবচেয়ে বড় শৈবাল কাঠামো, যা পশ্চিম আফ্রিকার উপকূল থেকে মেক্সিকো উপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। একে ‘আটলান্টিকের বাদামি সাপও’ বলা হচ্ছে।

​শৈবাল কাঠামোর বৃদ্ধির কারণ

​বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, গ্রেট আটলান্টিক সারগাসাম বেল্ট তৈরির পেছনে সমুদ্রের রসায়ন ও মানুষের প্রভাব রয়েছে।

​১. মানুষের প্রভাব: গত এক দশকে আমাজন, কঙ্গো ও মিসিসিপি নদীর মাধ্যমে কৃষিকাজে ব্যবহৃত সার, অপরিশোধিত বর্জ্য, নগরীর আবর্জনাসহ বিপুল পরিমাণ নাইট্রোজেন ও ফসফরাস আটলান্টিক মহাসাগরে প্রবেশ করেছে। এসব রাসায়নিক পদার্থ সারগাসাম নামে পরিচিত বাদামি সামুদ্রিক শৈবালের দ্রুত বৃদ্ধিতে সারের মতো কাজ করেছে।

২. প্রাকৃতিক কারণ: সাহারা মরুভূমি থেকে উড়ে আসা সূক্ষ্ম ধূলিকণার কারণে আটলান্টিক মহাসাগরের লৌহ উপাদান বেড়ে যাওয়ায় শৈবালের বিস্তার দ্রুত হয়েছে।

৩. স্রোতের পরিবর্তন: বিজ্ঞানীরা মনে করেন, ২০১০ সালের দিকে নর্থ আটলান্টিক অসিলেশন স্রোতের ধরন পরিবর্তনের কারণে বাতাসের দিক ও স্রোতের গতি পরিবর্তন হয়, যা সারগাসামকে বিশাল অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করেছে।

​পরিবেশগত প্রভাব

​স্বাভাবিকভাবে সারগাসাম শৈবাল বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও, এই বিশালাকার ‘গ্রেট আটলান্টিক সারগাসাম বেল্ট’ পরিবেশগত সমস্যা তৈরি করতে পারে:

  • ​এটি প্রবাল প্রাচীর ও সি-গ্রাস বেডে ঠিকমতো সূর্যের আলো পৌঁছাতে বাধা দেয়।
  • ​এর ফলে সালোকসংশ্লেষণে বাধা সৃষ্টির পাশাপাশি পানিতে অক্সিজেন কমে যেতে পারে।

Leave a Comment