শেখ মেহেদী হাসান নাদিম

ময়মনসিংহ নগরীর দুর্গাবাড়ি রোড এলাকায় অর্পিত ‘ক’ তফসিলভুক্ত বিপুল মূল্যের সরকারি সম্পত্তি অবৈধ দখল ও বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন। নগরীর এক সচেতন নাগরিকের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে প্রাথমিক তদন্ত ও রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা শেষে এর সুষ্ঠু আইনি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে উভয় পক্ষকে সরকারি শুনানিতে হাজির হওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
অভিযোগ ও সরকারি রেকর্ডের চিত্র
অভিযোগ ও প্রশাসনিক নথি সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন টাউন মৌজার ৯ নম্বর দুর্গাবাড়ি রোড এলাকার সি.এস. ১১৫৯ নম্বর খতিয়ানের ৯৫২ নম্বর দাগের ০.১৮৯০ একর জমি অর্পিত ‘ক’ তফসিলভুক্ত সরকারি সম্পত্তি। পরবর্তীতে বি.আর.এস. জরিপে উক্ত জমি অন্যান্য দাগের সাথে একীভূত হয়ে বি.আর.এস. ৩৪৭৪ নম্বর দাগে (মোট ০.৪৫৬০ একর) রূপান্তরিত হয়, যার মধ্যে ০.১৮৯০ একর সরকারি অর্পিত ‘ক’ তালিকাভুক্ত জমি এবং সরকারি ১/১ খতিয়ান ও ডি.পি. ১৫২৫ নম্বর খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, উক্ত সরকারি অর্পিত সম্পত্তি ও সংলগ্ন জমিতে কোনো প্রকার বৈধ সরকারি অনুমোদন বা লিজ ব্যতিরেকেই তিনটি ১১ তলা বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।

অভিযুক্ত ব্যক্তিগণ—মৃত মো: এম এ কাহারের তিন সন্তান মো: ফরহাদ হোসেন, মো: রফিকুল আলম ও মো: ইফতেখারুল আলম (পাপলু)—সরকারি জমিকে নিজেদের ব্যক্তিমালিকানাধীন দাগের সাথে একীভূত করে এই স্থাপনা গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়।
প্রশাসনের পদক্ষেপ ও নিরপেক্ষ আইনি প্রক্রিয়া
সচেতন নাগরিকের অভিযোগকে গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করে জেলা প্রশাসনের অর্পিত সম্পত্তি শাখা ও সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস প্রয়োজনীয় নথি ও সরেজমিন তথ্য যাচাই-বাছাই পরিচালনা করে। সরকারি সম্পত্তি সুরক্ষা এবং উভয় পক্ষের কথা শুনে বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সিদ্ধান্তের লক্ষ্যে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অর্পিত সম্পত্তি শাখা থেকে ইতোমধ্যেই একটি অফিশিয়াল শুনানির নোটিশ (স্মারক নম্বর: ০৫.৪৫.৬১০০.০২৮.৫৫.০০২.২৬.৫০৮) জারি করা হয়েছে।
অর্পিত সম্পত্তি শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ উজ্জ্বল হোসেন স্বাক্ষরিত উক্ত স্মারকে জানানো হয়, আগামী ০৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ সকাল ১১:০০ ঘটিকায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), ময়মনসিংহের অফিস কক্ষে এ বিষয়ে প্রশাসনিক শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ বিচারে পৌঁছাতে প্রয়োজনীয় সকল মূল নথিপত্রসহ বাদি মো: রেজাউল করিম এবং বিবাদি ইফতেখারুল আলম, মো: রফিকুল আলম ও মো: খায়রুল আলমকে উপস্থিত থাকার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের এমন দায়িত্বশীল ও সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার সূচনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল। সকল নথিপত্র যাচাই শেষে আগামী ৬ অক্টোবরের শুনানিতে অর্পিত সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।