লাইসেন্স ফি বৃদ্ধি ও রুটিন চালুর প্রতিবাদে জামালপুরে ইজিবাইক ধর্মঘট

সকাল থেকে ইজিবাইক চলাচল বন্ধ, চরম দুর্ভোগে শহরের শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষ

জামালপুর শহরে ইজিবাইকের লাইসেন্স ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদ ও পাঁচ দফা দাবিতে ধর্মঘট শুরু করেছেন চালক ও মালিকেরা। আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শহরের গেটপাড় এলাকায়।ছবি :

জামালপুর প্রতিনিধি

ইজিবাইকের লাইসেন্স ফি বৃদ্ধি ও শহরে এক দিন অন্তর রংভিত্তিক (লাল ও সবুজ) ইজিবাইক চলাচল চালুর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ধর্মঘটে নেমেছেন জামালপুর শহরের ইজিবাইক চালক ও মালিকেরা। আজ রোববার (২ নভেম্বর) সকাল ছয়টা থেকে শুরু হওয়া এই ধর্মঘট চলবে বেলা দুইটা পর্যন্ত। এতে শহরের শিক্ষার্থী, কর্মজীবীসহ সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

চালকদের ক্ষোভ ও দাবি

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি ইজিবাইকের লাইসেন্স ফি ৫০০ টাকা বাড়িয়ে ৪ হাজার টাকা করা হয়েছে। যানজট নিয়ন্ত্রণে রাখতে এক দিন লাল ও এক দিন সবুজ ইজিবাইক চলাচল করবে। এর প্রতিবাদে চালক ও মালিকেরা ধর্মঘট শুরু করেছেন।

  • লাইসেন্স ফি বৃদ্ধি: ইজিবাইক চালকদের অভিযোগ, পৌরসভা প্রতিবছর লাইসেন্স ফি বাবদ টাকা বাড়াচ্ছে। প্রতিবছর ৩ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হতো, এবার তা ৫০০ টাকা বাড়িয়ে ৪ হাজার টাকা করা হয়েছে।
  • রং করা ও খরচ: এক দিন লাল ও এক দিন সবুজ ইজিবাইক চলাচলের সিদ্ধান্ত হলেও, এই ইজিবাইকের রং চালক বা মালিককে করতে হবে। চালকদের দাবি, এত টাকা খরচ করা তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়।

আজ সকাল ১০টার দিকে শহরের প্রধান সড়কসহ অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো ফাঁকা দেখা যায়। ইজিবাইক চালক ও মালিকেরা শহরের গেটপাড় এলাকায় সড়কের ওপর অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন এবং দুই-একটি ইজিবাইক এলেই যাত্রীদের নামিয়ে দিচ্ছেন।

যাত্রীদের দুর্ভোগ ও প্রতিক্রিয়া

ইজিবাইক চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীরা হেঁটে গন্তব্যে যাচ্ছেন, অনেকে আবার মালামাল মাথায় নিয়ে যাচ্ছেন। সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের শিক্ষার্থী মো. রাফি বলেন, “দাবি-দাওয়া থাকতেই পারে। তবে সেটা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে কেন? এভাবে হঠাৎ সব বন্ধ করে দিয়ে মানুষকে কষ্ট দেওয়া ঠিক নয়।”

ইজিবাইকের চালক মো. মুন্না বলেন, “সারা দিনে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা আয় হয়। এর মধ্যে গাড়ির মালিককে এবং চার্জ বাবদ খরচ দিতে হয়। এর মধ্যে পৌরসভা লাইসেন্স ফি বাবদ টাকা বাড়ালে আমাদের থাকে কী?”

পৌরসভার ব্যাখ্যা

জামালপুর পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ৭ হাজার ৪০০ ইজিবাইকের লাইসেন্স দেওয়া হলেও, শহরে এখনো প্রায় ১১ হাজার ইজিবাইক চলাচল করছে।

পৌরসভার প্রশাসক মৌসুমী খানম প্রথম আলোকে বলেন, চালক ও মালিকেরা না বুঝেই আন্দোলন করছেন। তিনি জানান, লাল ও সবুজ রং পৌরসভাই করে দেবে। আর লাইসেন্স ফি বাবদ বাড়ানো ৫০০ টাকা চালকদের নিয়ে কর্মশালার আয়োজনে খরচ করা হবে। তিনি ভুল তথ্য পেয়ে আন্দোলনে নামা চালকদের ডেকে কথা বলবেন এবং সমস্যা সমাধানের আশা প্রকাশ করেন।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *