মামলা বাণিজ্য: ফেনীতে জড়িত রাজনীতিক-পুলিশ
আনোয়ার হোসেন ও নাজমুল হক, ঢাকা ও ফেনী।

প্রতীকী ছবি।
গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পরপর দেশের বিভিন্ন স্থানে থানায় হামলা, ভাঙচুর ও অস্ত্র-গুলি লুটের ঘটনা ঘটে। ফেনী মডেল থানায়ও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনায় আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন মো. জামাল উদ্দিন গাজী।
চার মাস পর জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি এখন নিজেকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আহত দাবি করে একটি নতুন মামলার আবেদন করেছেন। তাঁর এই আবেদনে আসামি হিসেবে ২৬৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, এবং অজ্ঞাতনামা আসামি রয়েছে আরও ১০০ থেকে ১৫০ জন।
মামলার এজাহার ও ‘মামলা-বাণিজ্য’
জামাল গাজী প্রথমে ফেনী মডেল থানায় মামলা করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে গত ১৭ আগস্ট তিনি ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করেন। আদালত মামলাটি অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে (সদর সার্কেল) তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আদেশ দেন।
জামাল গাজীর এজাহার অনুযায়ী, তিনি ফেনী থানা লুটের মামলায় ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিলেন এবং দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকায় মামলা করতে দেরি হয়েছে।
জামাল গাজী ফেনী জেলা যুবদলের সাবেক সদস্য। তাঁর দেওয়া এজাহারে আসামি হিসেবে শুধু গণ-অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্টদের নাম নয়, বরং নিম্নোক্ত শ্রেণির ব্যক্তিদের নাম যুক্ত করা হয়েছে:
- শুরুতে ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা।
- এরপর বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি, জাসদসহ বিভিন্ন দলের নিম্ন সারির নেতারা।
- ব্যক্তিগত, ব্যবসায়িক ও পেশাগত দ্বন্দ্বের জেরে সাধারণ ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের নামও যুক্ত করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ফেনীতে ‘মামলা-বাণিজ্য’ শব্দটি ব্যাপকভাবে পরিচিতি পেয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ব্যক্তিগত, ব্যবসায়িক ও পেশাগত দ্বন্দ্বের সুযোগ নিয়ে এবং চাপ দিয়ে অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে অনেককে এসব মামলায় আসামি করা হচ্ছে।
মামলায় নাম আসা বিএনপির ফেনী পৌরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সহসভাপতি আবদুল মতিন পারভেজ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এসে মামলার বাদী নিজে স্বীকার করেছেন যে তিনি আমাকে চেনেন না। এরপর কে আমার নাম দিয়েছে, সেটাই রহস্য।”
