বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউল হক জিয়ার জানাজায় জনতার ঢল
মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, চরকাঁকড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউল হক জিয়ার প্রথম জানাজা নামাজে মানুষের ঢল নেমেছে। তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী, আত্মীয়স্বজন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ জানাজায় অংশ নেন।
রবিবার (১৭ মে ২০২৬) বিকেলে কোম্পানীগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে মরহুমের এই প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নিতে দুপুরের পর থেকেই মাঠ ও আশপাশের এলাকায় মানুষের ব্যাপক সমাগম লক্ষ্য করা যায়। কলেজ মাঠের জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় (গার্ড অব অনার) দাফনের উদ্দেশ্যে মরদেহ তাঁর নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
শোকের ছায়া ও সর্বমহলে শ্রদ্ধা
জিয়াউল হক জিয়ার আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি তৃণমূল পর্যায়ে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, নিঃস্বার্থ জনসেবা এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানোর কারণে দল-মত নির্বিশেষে তিনি সর্বমহলে সমানভাবে সম্মানিত ও গ্রহণযোগ্য ছিলেন।
নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের স্মৃতিচারণ
জানাজায় উপস্থিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, “জিয়াউল হক জিয়া ছিলেন প্রকৃত অর্থেই গণমানুষের নেতা। এলাকার সুষম উন্নয়ন, জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি আজীবন সবসময় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও মানবিক গুণাবলি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের রাজনৈতিক কর্মীদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা মরহুমের স্মৃতিচারণ করে জানান, তিনি ছিলেন একজন সৎ, সাহসী, নির্লোভ ও জনবান্ধব ব্যক্তিত্ব। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বুকে ধারণ করে তিনি আজীবন সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। ব্যক্তি জীবনে চরম নম্রতা, সততা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার জন্যও তিনি মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন।
বিকেলে প্রথম জানাজা শেষে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং প্রিয় নেতার বিদায়ে অশ্রুসিক্ত চোখে মোনাজাতে অংশ নেন।
উপস্থিত স্থানীয় প্রবীণ নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষের মতে, বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউল হক জিয়ার এই চলে যাওয়া কোম্পানীগঞ্জের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি করেছে। তাঁর গৌরবময় কর্মময় জীবন ও অবদান এলাকাবাসী দীর্ঘদিন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ রাখবে।
