অর্থনীতি ডেস্ক

বিশ্ববাজারে রেকর্ড উত্থানের পর হঠাৎ করেই কমতে শুরু করেছে সোনার দাম। গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৫ হাজার ৫০০ ডলার ছাড়িয়ে ইতিহাস গড়লেও, মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে তা ৪৩৪ ডলার ৪৫ সেন্ট কমে এখন ৪ হাজার ৮৯৩ ডলারে নেমে এসেছে। বিশ্ববাজারের এই বড় পতনের প্রভাবে দেশের বাজারেও সোনার দাম এক লাফে অনেকটা কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।
কেন কমছে সোনার দাম?
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার আভাস পাওয়ায় সোনার দামে এই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) পরবর্তী চেয়ারম্যান হিসেবে কেভিন ওয়ারশ-এর মনোনয়নের গুঞ্জন পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে। বিনিয়োগকারীরা তাঁকে অন্য প্রার্থীদের তুলনায় ‘নিরাপদ’ মনে করছেন। এতে ডলারের মান শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা সোনা ছেড়ে অন্য খাতে ঝুঁকছেন। ফলে সোনা, রুপা ও প্লাটিনামের দাম একযোগে কমেছে।
দেশের বাজারে নতুন দাম
বিশ্ববাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আজ শনিবার সকালে দেশের বাজারেও সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাজুস। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১৫ হাজার ৭৪৬ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকা।
ক্যারট ভেদে সোনার নতুন দাম:
- ২২ ক্যারট: ২,৫৫,৬১৭ টাকা (ভরি)
- ২১ ক্যারট: ২,৪৪,০১১ টাকা (ভরি)
- ১৮ ক্যারট: ২,০৯,১৩৬ টাকা (ভরি)
- সনাতন পদ্ধতি: ১,৭১,৮৬৯ টাকা (ভরি)
সোনার ভবিষ্যৎ ও সরবরাহ পরিস্থিতি
বিশ্ব স্বর্ণ কাউন্সিলের তথ্যমতে, পৃথিবীতে এ পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ ১৬ হাজার ২৬৫ টন সোনা উত্তোলন করা হয়েছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, ভূগর্ভে আর মাত্র ৬৪ হাজার টনের মতো সোনা অবশিষ্ট আছে। খনি থেকে সোনা উত্তোলনের গতি কমে আসায় এবং বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা বজায় থাকায় দীর্ঘমেয়াদে সোনার দাম আবারও বাড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।
এবিসি রিফাইনারির বৈশ্বিক প্রধান নিকোলাস ফ্রাপেল জানান, সোনা কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে না, তাই অনিশ্চিত বিশ্ব বাস্তবতায় এটি সবসময়ই বিনিয়োগের অন্যতম নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে গণ্য হবে।
