পরকীয়া ও বিয়ের নাটক: ২ বছর পর টাকা ও আসবাবপত্র নিয়ে উধাও ভাগ্নে
আনিছুর রহমান আইয়ুব, জামালপুর প্রতিনিধি

জামালপুর সদর উপজেলার দিগপাইত ইউনিয়নে মামি-ভাগ্নের পরকীয়া ও পরবর্তীতে বিয়ের ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে। বিয়ের দুই বছর সংসার করার পর স্ত্রীর (যিনি সম্পর্কে মামি) গচ্ছিত নগদ টাকা ও আসবাবপত্র নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামী বক্তার আলীর (৫০) বিরুদ্ধে।
ঘটনার নেপথ্যে
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিগপাইত ইউনিয়নের কলাবাধা পশ্চিম পাড়া গ্রামের মৃত আহালু মিয়ার স্ত্রী হাসিনা বেগমের (৪৫) সাথে প্রতিবেশী মনসুর টিকাদারের প্রবাসী ছেলে বক্তার আলীর দীর্ঘদিনের যাতায়াত ছিল। সম্পর্কে তারা মামি-ভাগ্নে হওয়ায় বিষয়টি প্রথমদিকে কেউ নেতিবাচকভাবে দেখেনি। তবে বছর দুয়েক আগে অবৈধ সম্পর্কের বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসীর চাপে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই ঘটনা মেনে নিতে না পেরে হাসিনা বেগমের দুই ছেলে তাঁদের মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন।
সংসার ও প্রতারণার অভিযোগ
বিয়ের পর প্রায় দেড় বছর বিভিন্ন স্থানে ভাড়া বাসায় সংসার করেন তাঁরা। হাসিনা বেগমের অভিযোগ, প্রথমদিকে সব ঠিকঠাক থাকলেও সম্প্রতি বক্তার আলীর আচরণে পরিবর্তন আসে। তিনি হাসিনাকে ইটভাটায় রান্নার কাজে লাগিয়ে দেন এবং তাঁর উপার্জিত অর্থ দিয়ে সংসার চালাতেন। হাসিনা বেগম বলেন, “বক্তার আলী প্রায়ই কারণে-অকারণে আমাকে গালিগালাজ ও মারধর করত। তবুও আমি সব সহ্য করে সংসার করার চেষ্টা করেছি।”
সর্বস্ব নিয়ে উধাও
হাসিনা বেগমের দাবি, সম্প্রতি বক্তার আলী হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান এবং মুঠোফোনে জানান যে তিনি হাসিনাকে তালাক দিয়েছেন এবং আগের স্ত্রীর সংসারে ফিরে গেছেন। এর মধ্যেই একদিন হাসিনা কাজে থাকার সুযোগে বক্তার আলী ঘরের তালা ভেঙে ভেতরে থাকা আসবাবপত্র এবং সঞ্চয়কৃত ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যান।
ভুক্তভোগী হাসিনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ছেলেরা আমাকে ত্যাজ্য করেছে, বাপের বাড়িতেও ঠাঁই নেই। আমার দুনিয়াতে কেউ রইল না। আমাকে নিঃস্ব করে দিয়ে সে আগের সংসারে ফিরে গেছে। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
আইনি পদক্ষেপ
সংবাদকর্মীরা বক্তার আলীর বাড়িতে গিয়ে তাঁর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো সুনির্দিষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী হাসিনা বেগম বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
