নোয়াখালীতে মহিলা জামায়াত কর্মীকে ‘জবাই ও উলঙ্গ করে ভিডিও’ ছড়ানোর হুমকি

মোহাম্মদ উল্যা
নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি
নোয়াখালীতে বিএনপি অঙ্গসংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে মহিলা জামায়াতের কর্মীকে নৃশংসভাবে জবাই, নগ্ন করে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ ও সন্তানসহ হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তাজ নাহার বেগম সুমি (৩৮) বাদী হয়ে বুধবার (৯ অক্টোবর ২০২৫) থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
জিডি ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ থেকে জানা যায়, বুধবার বিকেল ৪টার দিকে নোয়াখালী পৌরসভার মধ্যম করিমপুরে তাজ নাহার বেগমের বাড়ির উঠানে জামায়াতের মহিলা শাখার উদ্যোগে একটি নির্বাচনী উঠান বৈঠক চলছিল। এ সময় গোলাপ নূর রোমান, মোঃ হোসেন বাবলু, রুবেলসহ ১০-১১ জনের একটি দল মোটরসাইকেলযোগে এসে বৈঠকে বাধা দেয়।
ভুক্তভোগীর দাবি অনুযায়ী, অভিযুক্তরা বৈঠকে উপস্থিত ৩০-৩৫ জন নারীকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার হুমকি দিয়ে বের করে দেয়। এরপর একজন অভিযুক্ত তার ঘরে এসে হুমকি দেয়, “এখানে যদি আর জামায়াতের কোনো মিটিং হয়, তাহলে আমাকে ও আমার সন্তানসহ জবাই করে এমনভাবে রাখব জামায়াতের লোক কেন, কোনো মশা মাছি পর্যন্ত টের পাবে না।” আরেকজন অভিযুক্ত মোবাইলে ছবি তুলে ও ভিডিও করে ইন্টারনেটে ছাড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। পরবর্তীতে গোলাপ নুর রোমান আবার হুমকি দেন যে, আইনগত পদক্ষেপ নিলে পরিবারসহ জবাই করে খুন করা হবে।
স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার বক্তব্য: অভিযুক্তদের একজন, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক গোলাপ নূর রোমান, জানান যে জামায়াতের বৈঠক নিয়ে তার আপত্তি ছিল না, বরং আপত্তি ছিল ওই বাড়ির উঠানে কেন জামায়াত মিটিং করবে।
জামায়াত ও বিএনপির প্রতিক্রিয়া:
★জামায়াতের জেলা আমির এএসএম ইসহাক খন্দকার এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এই হুমকি অতীতের সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা মনে করিয়ে দেয়। তিনি দ্রুত অপরাধীদের সনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
★নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো বলেন, ঘটনার সত্যতা পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা বা এমন কাজের প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
এ বিষয়ে সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলামের বক্তব্য জানার জন্য ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
