নোবিপ্রবি ছাত্রদল নেতার পদ স্থগিত: হাদি হত্যার প্রতিবাদে অংশগ্রহণ নাকি শৃঙ্খলা ভঙ্গ?
মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মেহেদি হাসান বাঁধনের সাংগঠনিক পদ তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মোঃ জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
পদ স্থগিতের প্রেক্ষাপট
গত বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে হত্যার প্রতিবাদে নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। অভিযোগ উঠেছে, দলীয় নেতৃবৃন্দের বাইরে গিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওই মিছিলে অংশগ্রহণ ও বক্তব্য দেওয়ার কারণেই মেহেদি হাসান বাঁধনের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।
অভিযুক্ত নেতার বক্তব্য
পদ স্থগিত হওয়া ছাত্রদল নেতা মেহেদি হাসান বাঁধনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি কেবল বলেন, “আমি এই মুহূর্তে এই বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না।”
নোবিপ্রবি ছাত্রদল সভাপতির ব্যাখ্যা
পদ স্থগিতের কারণ সাধারণ শিক্ষার্থীদের মিছিলে অংশ নেওয়া কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নোবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান বলেন, “এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। হাদি ভাইকে হত্যার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে আমরা ছাত্রদলের সকল নেতৃবৃন্দই অংশগ্রহণ করেছিলাম এবং আমি নিজে, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সেখানে বক্তব্য দিয়েছি।”
তিনি আরও যোগ করেন, “শহীদ জিয়ার আদর্শের অনুসারীরা হাদি ভাইকে শ্রদ্ধার সাথে লালন করেন। কেন্দ্রীয় ছাত্রদল কেবল সংগঠনের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এই ব্যবস্থা নিয়েছে। আমাদের কাছে সাংগঠনিক সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। যারা একে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে, তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন।”
ক্যাম্পাসে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
সাধারণ শিক্ষার্থীদের মিছিলে অংশ নেওয়া একজন নেতার পদ স্থগিত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে ছাত্রদল নেতৃত্বের দাবি, এটি একান্তই সংগঠনের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখার একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া।
