তারাকান্দার সেই ইকবাল হত্যা: একই পরিবারের ৭ জনের ফাঁসি, লাশ আড়ালে ব্যবহার হয়েছিল শিয়াল-গোবর!
স্টাফ রিপোর্টার , ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহের তারাকান্দায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তরুণ মুদি ব্যবসায়ী শাহীনুর আলম ইকবালকে (১৯) পরিকল্পিতভাবে হত্যার দায়ে একই পরিবারের ৭ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন এই চাঞ্চল্যকর রায় ঘোষণা করেন।
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা সবাই একই পরিবারের সদস্য—যাদের মধ্যে বাবা, ছেলে ও তাঁদের স্ত্রীরা রয়েছেন। এছাড়া আরও ২ জনকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বর্ণনা
মামলার বিবরণী ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ড. মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ২০২১ সালের ৩১ মে জমি নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে তারাকান্দার মুদি ব্যবসায়ী আব্দুর রউফের ছেলে ইকবালকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। হত্যার পর লাশ গোপন করতে অভিযুক্তরা তাঁদের বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকের ভেতর লাশটি পুঁতে রাখে।
লাশ আড়াল করতে এবং পচা দুর্গন্ধ ঢাকতে খুনিরা ট্যাংকের ওপর মরা শিয়াল এবং প্রচুর গোবর ফেলে রাখে। এমনকি সাধারণ মানুষের সন্দেহ দূর করতে তার ওপর গাছ লাগিয়ে বাগান তৈরি করা হয়।
যেভাবে উদঘাটিত হলো রহস্য
ইকবাল নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর বড় ভাই সেলিম মিয়া তারাকান্দা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ঘটনার ৫ দিন পর ওই সেপটিক ট্যাংক থেকে উৎকট দুর্গন্ধ বের হতে থাকলে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। পরে পুলিশ গিয়ে সেখান থেকে ইকবালের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে একই পরিবারের সদস্যদের এই ঠান্ডা মাথার খুনের পরিকল্পনা।
ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত এই রায় প্রদান করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, “এই রায় সমাজে অপরাধীদের জন্য একটি বড় বার্তা। লাশ আড়াল করতে শিয়াল ও গোবর ব্যবহারের মতো জঘন্য পথ বেছে নিয়েও খুনিরা রেহাই পায়নি।”
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
