খালিয়াজুড়িতে শিক্ষার্থীকে শাসনের অভিযোগে সহকারী শিক্ষক গ্রেফতার: পাঠানো হলো আদালতে

মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, খালিয়াজুড়ি (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ি উপজেলার রাজিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কাউসার আহমেদকে এক শিক্ষার্থীকে শাসনের অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শিশু নির্যাতন আইনে দায়ের করা মামলায় শুক্রবার (১৫ মে ২০২৬) তাকে নেত্রকোনা সদর কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার (১১ মে)। বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সিফাত ও মুগ্ধর মধ্যে দুষ্টামির একপর্যায়ে সিফাত হাতে ব্যথা পেয়ে শিক্ষক কাউসার আহমেদের কাছে বিচার দাবি করে। শিক্ষক কাউসার আহমেদ তৎক্ষণাৎ মুগ্ধকে ডেকে এনে শাসন করতে যান। এ সময় শিক্ষকের হাতে থাকা ছোট একটি পানির বোতল দিয়ে মুগ্ধর হাতে আঘাত করতে গেলে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে তার মাথায় লাগে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মাওলা জানান, ওইদিন মুগ্ধ প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে স্বাভাবিকভাবেই খাতা জমা দিয়ে বাড়ি ফিরে যায়।

চিকিৎসা ও মামলা দায়ের

পরদিন মঙ্গলবার (১২ মে) মুগ্ধ অসুস্থ বোধ করলে তাকে প্রথমে মোহনগঞ্জ এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মুগ্ধর বাবা-মা ঢাকায় কর্মরত থাকায় তার মামা বাদী হয়ে খালিয়াজুড়ি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে চিকিৎসা শেষে মুগ্ধ তার আত্মীয়ের বাসায় সাময়িকভাবে সুস্থ অবস্থায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্য

অভিযুক্ত শিক্ষক কাউসার আহমেদ জানান, তিনি কেবল শাসনের উদ্দেশ্যে হাতে আঘাত করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ভুলবশত তা মাথায় লেগে যায়। বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল বলেও তিনি দাবি করেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আজিমেল কদর (চলতি দায়িত্ব) জানান, বিষয়টি তদন্ত করা হয়েছে। সহকারী শিক্ষা অফিসার আবু রায়হানের মাধ্যমে তদন্তে জানা গেছে, শিক্ষক পানি পান করার সময় বোতল দিয়ে আঘাতটি করেছিলেন, যা বরফযুক্ত ছিল না এবং অনিচ্ছাকৃত ছিল।

পুলিশি পদক্ষেপ

খালিয়াজুড়ি থানার এসআই আব্দুল ওয়াদুদ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে সহকারী শিক্ষক কাউসারকে লেপসিয়া গ্রাম থেকে আটক করেন। খালিয়াজুড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন জানান, অভিযুক্ত শিক্ষককে শিশু নির্যাতন আইনে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে এবং যথাযথ পুলিশ পাহারায় শুক্রবার সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *