কুড়িগ্রামের উলিপুরে এমআর ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য “ঈদ আনন্দ” অনুষ্ঠিত
মোস্তাফিজার রহমান (জাহাঙ্গীর), কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নে পবিত্র ঈদুল আযহার আনন্দকে আরও প্রাণবন্ত করতে সামাজিক সংগঠন ‘এমআর ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য ও আকর্ষণীয় “ঈদ আনন্দ” অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার (৩০ মে ২০২৬) উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের কাঁঠালিপাড়া সরকার বাড়িতে দিনব্যাপী এই আনন্দ উৎসবের আয়োজন করা হয়।
খেলাধুলা ও পুরষ্কার বিতরণী
প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও সকাল থেকে শুরু হয় হরেক রকমের ঐতিহ্যবাহী ও বিনোদনমূলক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। এতে এলাকার শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সর্বস্তরের তরুণ-তরুণী ও সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। দিনভর খেলাধুলা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ীদের মাঝে আকর্ষণীয় পুরষ্কার বিতরণ করা হয়।
অবকাঠামো ও গ্রামীণ উন্নয়নের তাগিদ
গুনাইগাছ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ও বিশিষ্ট সমাজসেবক মোজাহারুল ইসলাম বাবুল-এর সভাপতিত্বে এবং এমআর ফাউন্ডেশনের সভাপতি মাহমুদুল হাসান সুজা-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুড়িগ্রাম মানহা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ও অধ্যক্ষ প্রকৌশলী আবু যাঈদ হাসনাইন মাসুম। এছাড়া আরও বক্তব্য দেন:
- জিয়াউর রহমান, প্রভাষক, জুম্মাহাট ডিগ্রি ফাজিল মাদ্রাসা।
- মাওলানা মো. শফিকুর রহমান, অধ্যক্ষ, উলিপুর আলিয়া মাদ্রাসা।
- মহিউল ইসলাম পলাশ, প্রতিষ্ঠাতা, এমআর ফাউন্ডেশন।
আলোচনা সভায় বক্তারা উলিপুর ও গুনাইগাছ এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন, বিশেষ করে গ্রামীণ রাস্তাঘাট ও বিভিন্ন সামাজিক অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন। পাশাপাশি করোনাকালীন সময় থেকে শুরু করে যেকোনো দুর্যোগে এবং সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে ‘এমআর ফাউন্ডেশন’-এর অনবদ্য অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সংগঠনটির উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।
সম্প্রীতির মেলবন্ধন
দিনব্যাপী এই মিলনমেলায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সমাজসেবক, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ দর্শক উপস্থিত ছিলেন। ঈদকে ঘিরে এ ধরনের উৎসবমুখর আয়োজন গ্রামীণ জনপদে শুধু আনন্দের খোরাকই জোগায় না, বরং সমাজ থেকে হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য বার্তা ছড়িয়ে দেয় বলে উপস্থিত সুধীজন অভিমত ব্যক্ত করেন।
