সাদ্দাম উদ্দিন রাজ, নরসিংদী প্রতিনিধি

সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এইচএসসি পরীক্ষায় এবারও দেশসেরা ফলাফল অর্জন করেছে নরসিংদীর আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ। আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর ২০২৬) সকালে প্রকাশিত ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটি এ অনন্য সাফল্য দেখায়। এ বছর কলেজটি থেকে অংশ নেওয়া ১ হাজার ৫৫২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ হাজার ৫৫১ জন পাশ করেছে, যার মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৬১ জন শিক্ষার্থী। শতকরা পাসের হার ৯৯.৯৪ শতাংশ।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলের পরিসংখ্যান
কলেজের প্রশাসনিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১,০৫৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৯৪ জন। ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে ১৮০ জন অংশ নিয়ে শতভাগ পাসসহ জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৯ জন। এ ছাড়া মানবিক শাখা থেকে ৩১১ জন অংশ নিয়ে শতভাগ পাসসহ ৯৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া সোয়াইব হোসেন ও মানবিক বিভাগের মাইমুনা আক্তারসহ শিক্ষার্থীরা জানান, কলেজের হোস্টেলে কঠোর শৃঙ্খলা, নিয়মিত পড়াশোনা, শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং অভিভাবকদের সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের ফলেই এই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।

শতভাগ পাস না হওয়ার কারণ ও অধ্যক্ষের বক্তব্য
শতভাগ পাসের দ্বারপ্রান্তে গিয়েও ১ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন কলেজের অধ্যক্ষ হেরেম উল্লাহ আহসান। তিনি বলেন, “আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। পরিচালনা পর্ষদের নির্দেশনায় নিয়মিত ক্লাস, স্পেশাল ক্লাস, হোম ভিজিট ও গাইড টিচারের মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থীদের তত্ত্বাবধান করেছি। তবে অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষা চলাকালে অসুস্থ হয়ে অংশ নিতে না পারায় অকৃতকার্য হয়েছে, যার কারণে আমরা শতভাগ পাস থেকে বঞ্চিত হয়েছি।”
কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও গভর্নিং বডির সভাপতি আবদুল কাদির মোল্লা ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “প্রথমেই মহান আল্লাহ তাআলার কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। এই সাফল্য আমাদের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং পুরো নরসিংদীবাসীর যৌথ প্রচেষ্টার ফল।”
বিগত বছরগুলোর সাফল্যের ধারা
উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজটি ২০০৮ সালে প্রথম ফলাফলেই ৯৯% পাস দিয়ে যাত্রা শুরু করে। ২০০৯ সালে ঢাকা বোর্ডে পঞ্চম ও সারাদেশে ষষ্ঠ, ২০১০ সালে ঢাকা বোর্ডে চতুর্থ, ২০১১ সালে সপ্তম এবং ২০১২, ২০১৩ ও ২০১৪ সালে টানা তিন বছর ঢাকা বোর্ড তথা সারাদেশে শতভাগ পাসসহ দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে।
পরবর্তীতে শিক্ষাবোর্ড থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সেরাদের তালিকা প্রকাশ বন্ধ হলেও ২০১৫ থেকে শুরু করে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রতিটি বছরেই দেশসেরা ফলাফলের এ ধারা অব্যাহত রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।