৪০ বছর পর মাশুল বেড়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের, কমানোর সুযোগ নেই: নৌসচিব

আজ রোববার ইআরএফ আয়োজিত সমদ্রগামী জাহাজ শিল্পের বিনিয়োগ সম্ভবনা শীর্ষক সেমিনারে উপস্থিত অতিথিদের একাংশছবি।
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা
নৌপরিবহন সচিব মোহাম্মদ ইউসুফ বলেছেন, ১৯৮৬ সালের পর এই বছর চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারে মাশুল বাড়ানো হয়েছে, যা প্রায় ৪০ বছর পর ঘটল। তিনি স্পষ্ট করে জানান, এই মাশুল কমানোর কোনো সুযোগ নেই।
আজ রোববার রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) মিলনায়তনে ‘সমুদ্রগামী জাহাজ শিল্পের বিনিয়োগ সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মাশুল না কমানোর কারণ
নৌপরিবহন সচিবের মতে, পাঁচ বছর পরপর মাশুল বাড়ানো উচিত ছিল। মাশুল না কমানোর প্রধান কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন:
”কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় আন্তর্জাতিক অপারেটর নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। আশা করছি, ডিসেম্বরের মধ্যে এই নিয়োগ হয়ে যাবে। তাদেরও মুনাফার বিষয় আছে। তাই মাশুল কমানোর সুযোগ নেই। সমীক্ষার ভিত্তিতে এই মাশুল নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও এই হার একটু বেশি।”
বিদেশি অপারেটর নিয়োগ
চট্টগ্রামসহ তিনটি কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় ২০ থেকে ৩০ বছরের জন্য বিদেশি অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। সচিব জানান, টার্মিনালগুলোর সক্ষমতা বাড়িয়ে লিড টাইম কমিয়ে আনতে বিদেশি অপারেটর ছাড়া উপায় নেই।
সমুদ্রগামী জাহাজ খাতে বিনিয়োগ চ্যালেঞ্জ
সেমিনারে বাংলাদেশ সমুদ্রগামী জাহাজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আজম জে চৌধুরী জানান, সমুদ্রগামী জাহাজ খাতে বিনিয়োগে ২০৩০ সাল পর্যন্ত কর অবকাশ দেওয়া ছিল, যার কারণে বাংলাদেশি জাহাজের সংখ্যা বেড়েছিল। তবে বর্তমান সরকার সেই কর অবকাশ বাতিল করায় সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ চ্যালেঞ্জে পড়েছে। তিনি কর অবকাশ পুনর্বহালের দাবি জানান।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান জাইদী সাত্তার বলেন, ভবিষ্যতে জাহাজ নির্মাণশিল্পের এক বিলিয়ন ডলার রপ্তানির সুযোগ রয়েছে এবং সে জন্য ব্যাংক গ্যারান্টিসহ অর্থায়নের সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
