২৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা: তালিকায় ২৩ সামরিক কর্মকর্তাও
গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ

ঢাকা:
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় করা দুটি মামলায় মোট ২৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এই ২৮ জন আসামির মধ্যে ২৩ জন বর্তমান ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তা রয়েছেন।
বুধবার (৮ অক্টোবর ২০২৫) ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ আমলে নিয়ে এ আদেশ দেন।
অভিযোগ এবং আসামিদের তালিকা
ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে ভিন্নমত দমনের উদ্দেশ্যে শত শত মানুষকে গুম করা হয়। এই মানুষগুলোকে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত গোপন বন্দিশালায় আটকে রেখে নৃশংস নির্যাতন করা হতো।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানাপ্রাপ্ত উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন:
★সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (দুই মামলার প্রধান আসামি)
★শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষা বিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকী (দুই মামলার কমন আসামি)
★ডিজিএফআইয়ের ৫ জন সাবেক মহাপরিচালক (লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. আকবর হোসেনসহ)
★অন্যান্য সামরিক কর্মকর্তা: লে. জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লে. জেনারেল তাবরেজ শামস চৌধুরী, মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হকসহ মোট ২৩ জন সামরিক কর্মকর্তা। এর মধ্যে উচ্চপদস্থ ৪ জন কর্মকর্তা এখনো সেনাবাহিনীতে কর্মরত রয়েছেন।
★সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল
★সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক খুরশিদ হোসেন এবং ব্যারিস্টার হারুন-অর-রশিদ।
প্রসিকিউশন জানায়, গুম হওয়া পরিবারগুলোর অভিযোগের ভিত্তিতে গঠিত এই মামলায় শেখ হাসিনা সব ধরনের গুম-খুনের নির্দেশদাতা হিসেবে অভিযুক্ত হয়েছেন। আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার দাবি জানিয়েছে তারা।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই আদেশে দেশের রাজনৈতিক, সামরিক ও নিরাপত্তা মহলে গভীর চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
