“সাজেষ্টিভ” জাদুকরী ও ব্রেস্ট কাটার মহোৎসব: প্যাথলজিস্ট যখন দার্শনিক!
শেখ মেহেদী হাসান নাদিম

মেডিকেল সায়েন্স দিন দিন যে কত উন্নত হচ্ছে, তা বোঝা গেল ময়মনসিংহের এক আলোচিত প্যাথলজিস্টের বয়ানে। “সাবেক স্পিকার আব্দুল হামিদ মেডিকেল কলেজ এন্ড হসপিটালের প্যাথলজি বিভাগের প্রধান জনাব প্রফেসর ডাক্তার সালেহ ইকবাল” যিনি কয়েক দশক ধরে চিকিৎসা শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে হাজারো ছাত্রকে ডাক্তারের রূপান্তরিত করেছেন!” তিনি যেন এক নতুন চিকিৎসাবিজ্ঞানের পথ দেখালেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি যা শোনালেন, তাতে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের সংজ্ঞা বদলে যেতে বাধ্য।
মূল মন্ত্র: “ভুল হওয়াটাই স্বাভাবিক”
ইন্টারভিউতে যখন তাকে প্রশ্ন করা হলো—আপনার “সাজেষ্টিভ এডিনো কারসিনোমা” রিপোর্ট দেখে সার্জন একজনের ব্রেস্ট কেটে ফেললেন, কিন্তু পরে দেখা গেল সেখানে ক্যান্সারই ছিল না! দায় কার?
প্যাথলজিস্ট সাহেব যেন সাক্ষাৎ সক্রেটিস! তিনি অত্যন্ত নির্বিকার ভঙ্গিতে জানালেন, “এটা তো জাস্ট একটা অপিনিয়ন (মতামত)!” অর্থাৎ, আপনার শরীরে ছুরি পড়বে কি না, সেটা নির্ভর করছে ডাক্তারের সেদিনের মুড বা স্রেফ একটা ‘মতামত’-এর ওপর।
BMDC ও লাইবিলিটির গোলকধাঁধা
ডাক্তাররা যখন অপারেশন টেবিলে থাকেন, তখন তারা অনেকটা সুফি সাধকদের মতো—ভুলবশত হাত ফস্কে কিছু কেটে ফেললে সেটাকে ‘সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা’ বা ‘পেশেন্টের তথ্যের অভাব’ বলে চালিয়ে দেওয়াটাই দস্তুর। মেডিকেল লাইনে ভুল হলে দায় কার ওপর যাবে, ইন্টারভিউতে তিনি সে অদ্ভুত রহস্যময়তা বজায় রেখেই দায় চাপালেন “ফাইনাল অথরিটি”-র ওপর। তার মতে, রিপোর্ট যাই হোক না কেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার মূল দায়িত্ব ওই সার্জন বা গাইনোলজিস্টের। আর যদি ভুলবশত অপারেশন হয়েও যায়, তবে সেটাকে তিনি “এক্সিডেন্ট” বা “পেশেন্টের তথ্যের অভাব” বলেই অভিহিত করেছেন।
পেশাদারিত্বের নমুনা
যখন সাংবাদিক তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ভুলের কারণে পেশেন্টকে কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় কি না, তখন তিনি নির্বিকারভাবে বললেন— “আমি বলতে পারব না।” অর্থাৎ, আপনার অঙ্গ হারানো আপনার কপাল, এখানে বিজ্ঞানের কোনো ‘লাইবিলিটি’ নেই।
নতুনদের জন্য উপদেশ (ডাক্তারি ভার্সন): ১. রিপোর্টে যা বুঝবেন না, সাহসের সাথে সেখানে ‘Suggestive’ লিখে দিন। বাকিটা সার্জনের ছুরি সামলে নেবে।
২. সাংবাদিক প্রশ্ন করলে তাকেই উল্টো আইনের জ্ঞান জিগান। মনে রাখবেন, আত্মপক্ষ সমর্থনই সেরা ডিফেন্স।
৩. সিজিপিএ বা পড়াশোনা যাই হোক, “গন্ডারের চামড়া” পলিসিটা প্র্যাকটিসেও কাজে লাগান। রিপোর্ট ভুল হোক আর পেশেন্ট কাঁদুক—হাসিমুখে বলুন, “অসংখ্য এমন ভুল তো হচ্ছেই!”
পুরো ইন্টারভিউটি শুনতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন: ডাক্তার সালেহ ইকবালের এক্সক্লুসিভ ইন্টারভিউ

“বাহ! চমৎকার লজিক। এখন থেকে পরীক্ষা ফেল করলে বলব—এটা আমার রেজাল্ট না, স্রেফ একটা ‘সাজেষ্টিভ অপিনিয়ন’! দায় সব খাতা দেখা শিক্ষকের।”