​শেরপুরে জেলা আওয়ামী লীগ নেতার জামিন: আদালত চত্বরে বিক্ষোভ ও ৭ দফা দাবি

শেরপুর সংবাদদাতা।

ফাইল ছবি।

শেরপুরে জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক চন্দন কুমার পালের জামিনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যরা। বিক্ষোভকারীরা জেলা জজ, পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর) ও জিপি (গভর্নমেন্ট প্লীডার)-এর অপসারণসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছে।

​আজ সোমবার সকাল ৯টা থেকে বিক্ষোভকারীরা শেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মূল ফটকের সামনে জড়ো হয়ে আন্দোলন শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা আদালতের প্রধান ফটক অবরোধ করে অবস্থান নেয়। বিক্ষোভকারীরা ঘোষণা দিয়েছেন, তাদের সাত দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।

জামিন নিয়ে বিতর্ক ও মামলার প্রেক্ষাপট

​শেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক চন্দন কুমার পালের জামিন ইস্যুটি বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

  • গ্রেপ্তার: সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ ছয়টি মামলা হয়। একই বছরের ১৬ অক্টোবর তিনি ভারতে পালানোর চেষ্টার সময় বেনাপোল সীমান্তে আটক হন এবং প্রায় এক বছর কারাগারে ছিলেন।
  • জামিন: চলতি বছরের ৯ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালত থেকে সব মামলায় জামিন পাওয়ার পর জেল থেকে বের হওয়ার সময় তাকে বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় ফের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সর্বশেষ ২৯ সেপ্টেম্বর শেরপুর আদালত থেকে তিনি জামিন পান। এরপর কারামুক্ত হয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যান।
  • সমালোচনা: চন্দন কুমার পালের জামিনের খবরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়। সেখানে গুজব ছড়ায় যে, তিনি জামিনের পর ভারতে পালিয়ে গেছেন

বিক্ষোভের সূত্রপাত

​জামিন ও গুজব ছড়ানোর জেরে শেরপুর শহর বিএনপির সভাপতি ও রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধেও সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে তিনি সংবাদ সম্মেলন করে এসবকে ‘অপপ্রচার’ বলে দাবি করেন। পাল্টা হিসেবে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে দুই দিনের আলটিমেটাম দেওয়া হয়। সেই আলটিমেটামের ধারাবাহিকতায় আজ এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হলো।

​পরে জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি তাদের দাবির প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে বলেন, লিখিত অভিযোগ দিলে দাবিগুলো দ্রুতই সরকারের কাছে পৌঁছে দেবেন।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *