রাজশাহীতে বাসায় ঢুকে বিচারকের ছেলেকে হত্যা, আহত মা; ঘটনার আগে হুমকি পেয়েছিলেন স্ত্রী

রাজশাহী প্রতিনিধি

রাজশাহী নগরের ডাবতলা এলাকার এই ভবনের পাঁচতলায় ভাড়া থাকেন বিচারক আব্দুর রহমান। হামলার পর পুলিশের তৎপরতা। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে।ছবি

রাজশাহীতে বাসায় ঢুকে মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবদুর রহমানের ছেলে তাওসিফ রহমানকে (সুমন) ছুরিকাঘাত করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় হামলাকারীর ছুরিকাঘাতে বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহারও (৪৪) আহত হয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বেলা আড়াইটার পর রাজশাহী নগরের ডাবতলা এলাকায় বিচারকের ভাড়া বাসায় এই ঘটনা ঘটে।

হুমকি ও পূর্ববিরোধের পটভূমি

নিহত তাওসিফ রহমান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী এবং শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন।

আহত হওয়ার আগে বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহার হত্যার হুমকি পেয়ে এক সপ্তাহ আগে (৬ নভেম্বর) সিলেটের জালালাবাদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন।

অভিযুক্ত লিমন মিয়া।ছবি
  • জিডির বিবরণ: জিডিতে তাসমিন নাহার উল্লেখ করেন, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সদস্য হওয়ার সূত্রে অভিযুক্ত লিমন মিয়া (৩৫)-এর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। লিমন আর্থিকভাবে দুর্বল হওয়ায় মুঠোফোনে প্রায়ই তাঁর কাছে আর্থিক সহযোগিতা চাইতেন। একপর্যায়ে তিনি অপারগতা প্রকাশ করলে লিমন মিয়া তাঁকে মুঠোফোনে কল দিয়ে হুমকি প্রদান করেন। সবশেষ ৩ নভেম্বর সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে লিমন মিয়া তাসমিন নাহারের মেয়ের ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে কল করে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের লোকজনদের হত্যার হুমকি দেন।
  • সিলেটের ঘটনা: সিলেট মহানগরের জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মোহাম্মদ মুবাশ্বির বলেন, লিমন মিয়া জজ স্যারের স্ত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে বিরক্ত করতেন এবং ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করে টাকা দাবি করছিলেন। ৬ নভেম্বর ম্যাডাম সিলেটে আসার খবর পেয়ে লিমনও সিলেটে আসে এবং সিনক্রিয়েট করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা লিমনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। জিডি করা হলেও মামলা না হওয়ায় পুলিশ লিমনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক দেখিয়ে আদালতে পাঠায়।
হামলার ঘটনায় আহত বিচারকের স্ত্রী তাসনিম নাহারকে অস্ত্রোপচার কক্ষ থেকে ওয়ার্ডে নেওয়া হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।ছবি

হত্যাকাণ্ড ও আটক

  • হামলাকারী: হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত লিমন মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। লিমন মিয়ার ঠিকানা গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ভবানিগঞ্জ এলাকা। আহত হওয়ায় তাঁকেও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
  • বাসায় প্রবেশের কৌশল: পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারী হিসেবে আটক যুবক লিমন বিচারকের বাসায় ঢোকার সময় ভবনের দারোয়ানের কাছে ‘বিচারকের ভাই’ পরিচয় দেন এবং খাতায় নিজের নাম ও মুঠোফোন নম্বর লেখেন। বেলা আড়াইটার দিকে ওই যুবক পাঁচতলার ফ্ল্যাটে যান।
  • আঘাত: প্রায় ৩০ মিনিট পর ফ্ল্যাটের গৃহকর্মী ভবনের অন্য বাসিন্দাদের জানান যে ফ্ল্যাটে বিচারকের ছেলে ও স্ত্রীকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। তাঁরা ফ্ল্যাটে ঢুকে তিনজনকেই আহত পান।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, হামলাকারী ব্যক্তির পকেটে একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে তিনি চালক। তাঁর সঙ্গে পূর্ববিরোধ থাকতে পারে। কেন এই ঘটনা ঘটেছে, তা তাঁরা এখনো বিস্তারিত জানেন না।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *