রংপুরে সাংবাদিক হেনস্তার অভিযোগ ‘জুলাই যোদ্ধার’ বিরুদ্ধে
রংপুর
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

সাংবাদিক লিয়াকত আলী।ছবি: সংগৃহীত
রংপুরে একুশে টেলিভিশনের বিভাগীয় প্রতিনিধি এবং দৈনিক সংবাদের নিজস্ব প্রতিবেদক লিয়াকত আলী (বাদল)-কে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় দেওয়া একদল ব্যক্তির বিরুদ্ধে। রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নগরের কাচারিবাজার থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হেনস্তা করা হয়।
ঘটনার বিবরণ
১৭ সেপ্টেম্বর দৈনিক সংবাদে ‘রংপুরে জুলাই যোদ্ধাদের নামে অটোরিকশার লাইসেন্স, ৫ কোটি টাকা বাণিজ্যের পাঁয়তারা’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন সাংবাদিক লিয়াকত আলী। তাঁর অভিযোগ, এই সংবাদের জেরেই নগরের জাহাজ কোম্পানি এলাকার বাসিন্দা এনায়েত আলী (রকি)-এর নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন লোক তাঁকে তুলে নিয়ে যায়। কাচারিবাজার মোড় থেকে তাঁকে জোর করে সিটি করপোরেশনে নিয়ে এসে মারধর করা হয় এবং তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। তাঁকে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ফাতিমা-র কাছে ক্ষমা চাইতে এবং প্রকাশিত সংবাদ প্রত্যাহার করতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
এই ঘটনায় রংপুর সিটি করপোরেশনের বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ফাতিমা ইন্ধন দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন লিয়াকত আলী।
বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য
- এনায়েত আলী (রকি): নিজেকে ‘জুলাই আন্দোলনের একজন রাজবন্দী সৈনিক’ দাবি করে এনায়েত আলী বলেন, তাঁরা সাংবাদিক লিয়াকতকে ‘আপসে’ নিয়ে এসেছিলেন, কোনো অসম্মান করেননি।
- উম্মে ফাতিমা: সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ফাতিমা এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এবং বলেছেন যে রিপোর্টের কারণে ক্ষমা চাওয়ার জন্য কোনো সাংবাদিককে নিয়ে আসার প্রশ্নই ওঠে না।
- আতাউর রহমান: রংপুর মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন যে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হচ্ছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
- সাংবাদিকদের প্রতিবাদ: ঘটনার খবর পেয়ে রংপুরে কর্মরত সাংবাদিকেরা সিটি করপোরেশনে গিয়ে বিক্ষোভ করেন। তাঁরা জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।
