মাদারীপুর-১: নাদিরা ও সাজ্জাদ সিদ্দিকীর মনোনয়ন নিয়ে বিতর্ক
মাদারীপুর (শিবচর) প্রতিনিধি

মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নাদিরা আক্তার ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী লাবলুর বিরুদ্ধে হলফনামায় তথ্য গোপন করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সম্পদ বিবরণী ও নগদ অর্থের তথ্য গোপনের বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ জমা পড়ার পর আসনজুড়ে শুরু হয়েছে তোলপাড়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এই দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাদিরা আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি তাঁর মালিকানাধীন ‘লাভিদ লায়েন্স ব্রিকস’ নামক ইটভাটার তথ্য হলফনামায় গোপন করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ওই ইটভাটার কোনো ভ্যাট প্রদান করা হয়নি এবং লাইসেন্সও নবায়ন করা নেই। যদিও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তিনি ইটভাটাটি অন্য এক ব্যক্তির কাছে লিজ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এই তথ্য গোপন করার পরও মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়ায় যাচাই-বাছাইয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে একটি পক্ষ।
স্বতন্ত্র প্রার্থীর নগদ অর্থের রহস্য
অন্যদিকে, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকীর নগদ অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি হলফনামায় ২৭ লাখ টাকা নগদ অর্থ দেখালেও ৭ বছরের ব্যবধানে এবারের হলফনামায় ১ কোটি টাকা উল্লেখ করেছেন। ৭৩ লাখ টাকা বৃদ্ধি পেলেও তার আয়ের কোনো সুনির্দিষ্ট উৎস বা কর প্রদানের তথ্য তিনি উল্লেখ করেননি বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার বক্তব্য
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, ১ জানুয়ারি যাচাই-বাছাইয়ের সময় কোনো লিখিত অভিযোগ সরাসরি জমা পড়েনি। ৩ জানুয়ারি একটি অভিযোগ পাওয়ার পর তা ৪ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশন তদন্ত করে যে সিদ্ধান্ত দেবে, সেটিই কার্যকর হবে। আপাতত অভিযুক্তদের মনোনয়ন বৈধ রাখা হয়েছে।”
প্রার্থীদের প্রতিক্রিয়া
অভিযোগের বিষয়ে নাদিরা আক্তার ও সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী উভয়ই তাদের বিরুদ্ধে আনা তথ্য গোপনের অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।
মাদারীপুর-১ আসনের ভোটচিত্র
শিবচর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ২১ হাজার ১৩৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৭ হাজার ১৮৭ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৪৪ জন। পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদীবেষ্টিত এই আসনে ১০২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
