মসজিদের নাম ও অবস্থান পরিবর্তন করে সম্মানী ভাতা আদায়ের অভিযোগ
মোস্তাফিজার রহমান জাহাঙ্গীর, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় একটি মসজিদের নাম ও অবস্থান পরিবর্তন করে অনৈতিকভাবে সরকারি সম্মানী ভাতা প্রাপ্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। ফুলবাড়ী ইউনিয়নের একটি মসজিদকে ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট ভাতা উত্তোলনের পায়তারা চলছে বলে দাবি করেছেন বঞ্চিতরা।
অনিয়মের নেপথ্যে

জানা গেছে, ২০২৬ সালের ঈদুল ফিতরের আগে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের মাসিক ভাতা প্রদানের লক্ষ্যে তালিকা প্রণয়ন শুরু করে সরকার। নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে একটি করে জামে মসজিদ নির্বাচনের জন্য ৩ সদস্যের উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, এই কমিটি ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের ‘খড়িবাড়ী বাজার শাহী জামে মসজিদ’-এর নাম বাদ দিয়ে ফুলবাড়ী ইউনিয়নের ‘খরিবাড়ী বাজার পুরাতন জামে মসজিদ’-কে ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত দেখিয়ে তালিকাভুক্ত করেছে। ফলে ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের প্রকৃত হকদাররা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বঞ্চিতদের ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া

খড়িবাড়ী বাজার শাহী জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন আবুল কাসেম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “১৭ বছর ধরে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করছি, অথচ পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের মসজিদকে আমাদের ইউনিয়ন দেখিয়ে আমাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।” মসজিদ কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বার জানান, প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে মসজিদ ভাতা পাবে, কিন্তু ভাঙ্গামোড়কে বঞ্চিত করা অনৈতিক। এমনকি তালিকাভুক্ত মসজিদের মুয়াজ্জিন সাইফুর রহমানও স্বীকার করেছেন যে, তাদের মসজিদটি ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের মধ্যে পড়েনি।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সুপারভাইজার রাশেদুল ইসলাম জানান, মাঠ পর্যায়ের জরিপকারীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তালিকা করা হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলারা আকতার প্রথমে কিছু জানেন না বলে জানালেও পরে তাঁর স্বাক্ষরিত চিঠির কপি দেখালে তিনি বলেন, “পুরো চিঠি না পড়েই স্বাক্ষর করেছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” কুড়িগ্রাম ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক জানান, সঠিক তদন্ত প্রতিবেদন পেলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
