ময়মনসিংহে বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসব, বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন রেঞ্জ ডিআইজি

​স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ

‘বিতর্ক মানেই যুক্তি, বিজ্ঞানে মুক্তি’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে তরুণ প্রজন্মের মাঝে যুক্তিনির্ভর চিন্তাধারা, মননশীলতা ও বিজ্ঞানমনস্কতা বিকাশের লক্ষ্যে ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বিএফএফ-সমকাল জাতীয় বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসব-২০২৬’-এর বিভাগীয় প্রতিযোগিতা।

​বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর ২০২৬) ময়মনসিংহের টাউন হল মোড়সংলগ্ন অ্যাডভোকেট তারেক স্মৃতি মিলনায়তনে দিনব্যাপী জমজমাট আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

​এবারের বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় ময়মনসিংহ, জামালপুর, নেত্রকোনা, শেরপুর, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার চ্যাম্পিয়ন দলগুলো অংশ নেয়।

​ফাইনাল প্রতিযোগিতা ও বিজয়ী দল

​প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ আয়োজনের চূড়ান্ত পর্বে মুখোমুখি হয় ময়মনসিংহ জিলা স্কুল এবং নেত্রকোনার আঞ্জুমান আদর্শ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে ফাইনালে ময়মনসিংহ জিলা স্কুল বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে এবং রানার্সআপ হয় নেত্রকোনার আঞ্জুমান আদর্শ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়।

​অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ী ও বিজিত দলের বিতার্কিকদের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেন ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, বিপিএম-সেবা।

​আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ

​ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান; মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ময়মনসিংহের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ জেড এম রেজাউল করিম খান; ময়মনসিংহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের উপাধ্যক্ষ মো. শওকত হোসেন; সমকাল সুহৃদ সমাবেশের সভাপতি মাহবুব রেজা করিম মুরাদ; সাধারণ সম্পাদক মুহা. মশিউল আলম এবং ময়মনসিংহ জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুস সালাম।

​বিতর্কের বিষয়বস্তু ও সমাপনী বক্তব্য

​প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সরকারি পদক্ষেপ, টেকসই উন্নয়নে বিজ্ঞান ও গবেষণায় বিনিয়োগ এবং ডিজিটাল আসক্তি রোধে স্মার্টফোন ব্যবহারে বিধিনিষেধসহ বিভিন্ন সমসাময়িক ও বিজ্ঞানভিত্তিক বিষয় নিয়ে বিতার্কিকেরা তথ্য-উপাত্তনির্ভর যুক্তি উপস্থাপন করেন।

​এ ধরনের আয়োজন তরুণ প্রজন্মের মধ্যে যুক্তিবাদী চিন্তা, বিজ্ঞানমনস্কতা, তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ ও গঠনমূলক মতপ্রকাশের চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ ও উৎসাহিত করবে বলে সমাপনী বক্তব্যে আয়োজক ও অতিথিবৃন্দ দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।