শেরপুরে নালিতাবাড়ীতে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা চুরির অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

​মনজুরুল হক, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি

শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে অটোরিকশাচালকের বাড়ি থেকে এক জোড়া স্বর্ণের কানের দুল ও নগদ ২০ হাজার টাকা চুরির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সোহান (১৯) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২১ অক্টোবর ২০২৬) রাতে উপজেলার মানিকচাঁদ পাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে চুরির প্রকৃত ঘটনা ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হবে। গ্রেপ্তার সোহান ওই গ্রামের মৃত চাঁন মিয়ার ছেলে।

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুলাই বিকেলে উপজেলার কয়রাকুড়ি গ্রামের অটোরিকশাচালক খলিলুর রহমান পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভটপুর গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান। রাতে বাড়ি ফিরে ঘরের দরজা ঠিকঠাক দেখতে পেলেও ভেতরে থাকা প্লাস্টিকের ওয়ারড্রোবে রাখা এক জোড়া স্বর্ণের কানের দুল ও নগদ ২০ হাজার টাকা খুঁজে পাননি। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

​বিভ্রান্তি ও ভিন্ন ভিন্ন নাম প্রকাশের অভিযোগ

​স্থানীয় সূত্রের দাবি, ঘটনার পর একপর্যায়ে সোহান জনসমক্ষে চুরির সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। পরে তিনি এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে প্রথমে এক যুবকের নাম বললেও তাঁর সঙ্গে চুরির কোনো যোগসূত্র না পাওয়ায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কয়েক দিন পর সোহান তাঁর প্রতিবেশী স্যানিটারি ও ইলেকট্রিক মিস্ত্রি মুক্তারের নাম উল্লেখ করেন। এভাবে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির নাম বলায় ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় বিভ্রান্তি ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়।

​স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, স্থানীয় একটি চক্র আর্থিকভাবে স্বচ্ছল মুক্তারকে চুরির ঘটনায় ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। ভুক্তভোগী খলিলুর রহমানকে প্রতিকার পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাঁর কাছ থেকে বিভিন্ন সুবিধা নেওয়া এবং ক্ষতিপূরণ আদায়ের ক্ষেত্রে কমিশনভিত্তিক চুক্তির অভিযোগও রয়েছে ওই চক্রের বিরুদ্ধে। এতে ভুক্তভোগী নিজেও বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েন। পরবর্তীতে তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযোগটি আমলে নিয়ে মামলা হিসেবে গ্রহণ করে।

​জানা গেছে, সোহান একসময় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি মুক্তারের সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। লেনদেন নিয়ে তাঁদের মধ্যে মনোমালিন্য তৈরি হওয়ায় মুক্তারকে ফাঁসাতে সোহান চুরির ঘটনায় তাঁর নাম জড়িয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে মুক্তারকে দায়ী করার মতো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ স্থানীয় ওই চক্র উপস্থাপন করতে পারেনি বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

​পুলিশের বক্তব্য

​নালিতাবাড়ী সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আফসান আল আলম বলেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে এ ঘটনায় জড়ানোর চেষ্টা করা হলে তাঁকে হয়রানি করা হবে না।

​পুলিশের নিবিড় তদন্তের মাধ্যমেই চুরির প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটিত হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।