মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

নোয়াখালী-৫ আসনে অবশেষে প্রয়াত ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের ঘনিষ্ঠ কর্মী মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামকে ধানের শীষ প্রতীক দিয়ে মনোনয়ন ঘোষণা করেছে বিএনপি।
দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনা, অভ্যন্তরীণ চাপ, গোপন লবিং ও ষড়যন্ত্রের পথ পাড়ি দিয়ে ফখরুল ইসলাম এখন দলের প্রত্যাশিত “কাণ্ডারি” হিসেবে সামনে আসছেন। মনোনয়ন বঞ্চিতদের একাংশের অসন্তোষ ও অপপ্রচারের চেষ্টা সত্ত্বেও তিনি মাঠে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছেন।
মওদুদ ঘরানার উত্তরসূরি
গত কয়েক মাস ধরে নোয়াখালী-৫ আসনকে কেন্দ্র করে বিএনপির ভেতর নানা ধরনের আলোচনা, জল্পনা, এমনকি বিভ্রান্তিও ছড়িয়ে পড়েছিল। কে ধানের শীষ পাবেন? মওদুদ আহমদের রাজনৈতিক উত্তরসূরি কে? স্থানীয় নেতৃত্ব কাকে চায়? শেষ পর্যন্ত এসব প্রশ্নের উত্তর অবসান ঘটিয়ে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামকে, যাকে মওদুদ ঘরানার গুরুত্বপূর্ণ কর্মী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে চেনেন স্থানীয়রা।
নেতাকর্মীরা বলছেন, তার মনোনয়ন পাওয়া প্রকৃত অর্থে “মওদুদ স্কুল অফ পলিটিক্স”এর ধারাবাহিকতা।
প্রয়াত মওদুদ আহমদের রাজনৈতিক দল ও সক্রিয় কর্মীদের মধ্যে ফখরুল ইসলাম ছিলেন নির্ভরযোগ্য, পরিশ্রমী এবং সংগঠক—এসব গুণ তাঁকে “উত্তরসূরি প্রার্থীদের প্রথম সারিতে” এনে দাঁড় করিয়েছে।
বিএনপি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মতে, নোয়াখালী-৫ এ মওদুদের রাজনৈতিক ছায়া এখন ফখরুল ইসলামের ওপর স্পষ্টভাবে পড়েছে।
মনোনয়ন প্রক্রিয়া ও জনসমর্থন
স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দের সূত্র বলছে, মাঠপর্যায়ের জরিপ, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটির সুপারিশ এবং স্থানীয় ভোটারদের পছন্দ—এসব বিবেচনা করেই ফখরুলকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়।
এই সিদ্ধান্তে স্থানীয় নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ স্বস্তি পেয়েছে। ফখরুলের পক্ষে ইউনিয়ন থেকে মিছিল, সমাবেশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থন ঢেউ দেখা যাচ্ছে।
মনোনয়ন ঘোষণার পরপরই একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতার মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। তারা শুরু করেছে, ফেসবুকে নেগেটিভ ক্যাম্পেইন, সংগঠনের নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর পোস্ট, স্থানীয়ভাবে ছোটখাটো প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ড, শীর্ষ নেতাদের কাছে “বদলি মনোনয়ন” চাওয়ার লবিং করে, মনোনয়ন বঞ্চিতদের দুই–একজন এমনকি ফখরুল ইসলামকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চালিয়েছেন।
নোয়াখালী-৫ আসনে প্রয়াত মওদুদ আহমদের উত্তরসূরি দল হিসেবে মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের উত্থান শুধু একটি মনোনয়ন নয়, এটি আসলে বিএনপির সংগঠনিক ঐক্যের প্রতীক। সব ষড়যন্ত্র পরাজিত করে, সব জল্পনা-কল্পনার সমাপ্তি ঘটিয়ে তিনি এখন বিএনপির নির্বাচনী “কাণ্ডারি” হতে চলেছেন।
নেতাকর্মীদের ভাষ্য, দলীয় সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে এবং বিজয়ের পথে এগিয়ে যেতে ফখরুলই এখন নোয়াখালীর নতুন ভরসার নাম।
