‘বেস্ট ট্যুরিজম প্রমোশন ইন মিডিয়া’ ক্যাটাগরিতে টিটা অ্যাওয়ার্ড পেল এভিয়েশন এক্সপ্রেস

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের পর্যটন খাতে গণমাধ্যমের মাধ্যমে অসামান্য ও ধারাবাহিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মর্যাদাপূর্ণ “টোয়াব ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরিজম অ্যাওয়ার্ড (টিটা) ২০২৬” (TITA) পুরস্কার অর্জন করেছে বিমান ও পর্যটন বিষয়ক বিশেষায়িত শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘এভিয়েশন এক্সপ্রেস’।

রবিবার (১৭ মে ২০২৬) সন্ধ্যায় রাজধানীর পাঁচতারকা হোটেল শেরাটন ঢাকায় ট্যুর অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব) আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য ও জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির হাতে এই ট্রফি ও সম্মাননা সনদ তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এভিয়েশন এক্সপ্রেস কর্তৃপক্ষের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টোয়াব (TOAB) সভাপতি মোঃ রাফিউজ্জামান

যে কারণে এই স্বীকৃতি

বাংলাদেশের বিমান, পর্যটন ও রেমিট্যান্স যোদ্ধা তথা প্রবাসী সেক্টরে বিশেষায়িত সাংবাদিকতা এবং শিল্পকেন্দ্রিক বস্তুনিষ্ঠ ধারাবাহিক কভারেজের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পর্যটন প্রচার ও প্রসারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখায় এভিয়েশন এক্সপ্রেসকে “বেস্ট ট্যুরিজম প্রমোশন ইন মিডিয়া” ক্যাটাগরিতে এই অনন্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।

উল্লেখ্য, এভিয়েশন এক্সপ্রেস বিমান, পর্যটন ও প্রবাসী সেক্টরের একটি প্রথম সারির বিশেষায়িত গণমাধ্যম হিসেবে যাত্রা শুরু করে। পাক্ষিক মুদ্রণ (প্রিন্ট) ও আধুনিক ডিজিটাল প্রকাশনার মাধ্যমে এই শিল্পের বিভিন্ন সংবাদ, আকর্ষণীয় ফিচার, গভীর বিশ্লেষণ এবং এক্সক্লুসিভ কভারেজ পরিবেশন করে আসছে প্রকাশনাটি। ফলে দেশের এভিয়েশন প্রফেশনালস, সরকারের নীতিনির্ধারক, কর্পোরেট নেতৃত্ব ও ভ্রমণপিপাসু সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে এটি ইতোমধ্যে বেশ শক্তিশালী ও আস্থার অবস্থান তৈরি করেছে।

জিডিপিতে পর্যটনের অবদান ৯ শতাংশ করার লক্ষ্য

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, “বর্তমান সরকার পর্যটন খাতকে দেশের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে রূপান্তরিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”

তিনি এক যুগান্তকারী তথ্য জানিয়ে বলেন, “বর্তমানে দেশের মোট জিডিপিতে (GDP) পর্যটন খাতের অবদান প্রায় ৩ শতাংশ হলেও আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আধুনিকায়নের মাধ্যমে তা ৮ থেকে ৯ শতাংশে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।”

১,৪৯৮টি স্পট নিয়ে মেগা মাস্টারপ্ল্যান

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার পর্যটনকে শুধু নিছক অর্থনৈতিক খাত হিসেবে নয়, বরং আঞ্চলিক সুষম উন্নয়ন ও বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বিনিময়ের কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে দেশের মোট ১,৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণ বা স্পটকে চিহ্নিত করে সেগুলোর আন্তর্জাতিক মানের উন্নয়ন ও প্রচারকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত ‘পর্যটন মাস্টারপ্ল্যান’ গ্রহণ করা হয়েছে।

এই মেগা পরিকল্পনায় সুন্দরবন ও পার্বত্য অঞ্চলকে ঘিরে ‘ইকো ট্যুরিজম’, তরুণদের জন্য ‘অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম’, ‘ধর্মীয় পর্যটন’ এবং বাংলাদেশের হাজার বছরের প্রাচীন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী এ সময় শিল্প সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নীতি-সংস্কার প্রস্তাব আহ্বান করেন এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে পর্যটন অবকাঠামো সম্প্রসারণে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এবারের আসরে পর্যটন খাতের বিভিন্ন স্তরে বিশেষ ও গৌরবোজ্জ্বল অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মোট ১৩টি ক্যাটাগরিতে দেশের শীর্ষস্থানীয় ১৩টি সফল প্রতিষ্ঠানকে এই মর্যাদাপূর্ণ ‘টিটা সম্মাননা পদক’ প্রদান করা হয়েছে।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *