বিসিবি নির্বাচন: সমঝোতায় আসন ভাগাভাগি, বিপাকে তামিম
তারেক মাহমুদ, ঢাকা।

বিসিবি নির্বাচনে পরিচালক পদে নির্বাচন করছেন তামিম ইকবাল।
বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনকে ঘিরে যে উত্তাপ ছিল, গত শুক্রবার সরকার ও বিএনপিপন্থী দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া দুটি আলোচনার পর তা কমে এসেছে। সবার অভীষ্ট লক্ষ্য যেহেতু পরিচালকের পদে বসা, তাই ‘যুদ্ধবিগ্রহে’ না জড়িয়ে কিছু ছাড় দিয়ে সমঝোতা করে নেওয়াই লাভজনক—এমন ধারণার দিকেই এগোচ্ছে নির্বাচন। শোনা যাচ্ছে, ‘আসন’ (পরিচালক পদ) ভাগাভাগিও মোটামুটি সারা।
ক্লাব ক্যাটাগরিতে বিভেদ: বিপাকে প্রকৃত সংগঠকেরা
সমঝোতার গুঞ্জনের মধ্যেই চাপা উত্তেজনা ছড়াচ্ছে ক্যাটাগরি-২ বা ক্লাব ক্যাটাগরির নির্বাচন নিয়ে। মূলত, ক্লাব থেকে পরিচালক প্রার্থী হিসেবে বিএনপির নেতা-পুত্রদের অগ্রাধিকার দেওয়ায় প্রকৃত ক্লাব সংগঠকেরা এককভাবে নির্বাচনে দাঁড়াচ্ছেন।
- বিভেদের প্রমাণ: ক্লাব সংগঠকেরা যে তাঁদের বাদ দিয়ে প্যানেল করাটাকে ভালোভাবে নেননি, তার প্রমাণ হলো—এই ক্যাটাগরিতে ১২টি পরিচালক পদের জন্য ৭৬ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ৩২ জনেরই মনোনয়নপত্র কেনা।
- নেতা-পুত্রদের মনোনয়ন: গতকাল এই ৩২ জনের মধ্যে ৩০ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এদের মধ্যে চারটি ক্লাবের কাউন্সিলর হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন বিএনপির চার নেতার ছেলে: বরকতউল্লা বুলুর ছেলে ওমর শরীফ মো. ইমরান, মির্জা আব্বাসের ছেলে মির্জা ইয়াসির আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ছেলে ইসরাফিল খসরু ও সালাহউদ্দিন আহমদের ছেলে সাঈদ ইব্রাহিম আহমদ।
- কারা অনুপস্থিত: কাকরাইল বয়েজ ক্লাবের কাউন্সিলর ও বর্তমান পরিচালক সালাহউদ্দিন চৌধুরী এবং ব্রাদার্সের কাউন্সিলর ও বিএনপির প্রয়াত নেতা সাদেক হোসেনের ছেলে ইশরাক হোসেন অবশ্য মনোনয়ন জমা দেননি।

বর্তমান বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলামই এখন পর্যন্ত ভবিষ্যৎ সভাপতি হিসেবে একমাত্র প্রার্থী বলে শোনা যাচ্ছে
শামসুল হক।
ক্লাব ক্যাটাগরিতে প্রকৃত সংগঠকদের বাদ দিয়ে হঠাৎ রাজনৈতিক নেতা-পুত্রদের সামনে নিয়ে আসায় ক্লাবগুলোর মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়েছে। অতীতে এসব ক্লাবকে আর্থিকভাবে সহায়তা করা সংগঠকদের বাদ দেওয়ায় তাদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।
সভাপতির পদে আমিনুল ইসলাম, ব্যাকফুটে তামিম
সরকার ও বিএনপিপন্থীদের মধ্যে এই ‘আসন’ ভাগাভাগিতে বর্তমান বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলামই এখন পর্যন্ত ভবিষ্যৎ সভাপতি হিসেবে একমাত্র প্রার্থী বলে শোনা যাচ্ছে।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক সঙ্গীসাথি ও বিএনপির সমর্থন নিয়ে মহাসমারোহে নির্বাচনের মাঠে নামা জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের পক্ষ কিছুটা ব্যাকফুটে।
- তামিমকে আশ্বাস: সমঝোতায় তামিমকে আপাতত ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান করার পাশাপাশি সেন্টার অব এক্সিলেন্স গঠনের দায়িত্ব দিয়ে তাঁর স্বপ্নপূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।
- সহসভাপতি গুঞ্জন: গুঞ্জন আছে, তামিম দুটি সহসভাপতি পদের একটি পেতে পারেন। তবে ক্লাবগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হওয়ায় একই গুঞ্জন অন্যদের নিয়েও আছে এবং সেটাই বেশি জোরালো। তবে দুটি সহসভাপতি পদই যে ক্লাব থেকে আসা পরিচালকদের দুজন পাবেন, তা মোটামুটি নিশ্চিত।

বিসিবির সাবেক পরিচালক মাহবুব আনাম নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সমঝোতার পূর্ব ইতিহাস
এই বিভেদের সৃষ্টি অবশ্য বিসিবির বর্তমান পরিচালক মাহবুবুল আনাম নির্বাচন না করার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই। তার আগপর্যন্ত মাহবুবের নেতৃত্বে ২০-২২টি ক্লাবের একটি মোর্চা ছিল। তাঁরাও ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে ৯টি পরিচালক পদ পাওয়ার জন্যই এগোচ্ছিলেন, তবে সবাই ছিলেন প্রকৃত সংগঠক। বাকি তিনটি পদ তাঁরা সরকারপন্থীদের ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
বর্তমানে, নির্বাচনে বিএনপিপন্থীদের মূল শক্তি ক্যাটাগরি-২-এর ক্লাব কাউন্সিলররা আর সরকারপন্থীদের শক্তি ক্যাটাগরি-১-এর জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা এবং ক্যাটাগরি-৩-এর সাবেক ক্রিকেটার, বিশ্ববিদ্যালয় ও সংস্থার কাউন্সিলররা
