শেখ মেহেদী হাসান নাদিম

সম্প্রতি ময়মনসিংহের সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত পরিচিত ও সাহসী অনুসন্ধানী সাংবাদিক জয়নাল ভাইয়ের বিভিন্ন ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যের ঘরে কিছু ব্যক্তিকে উসকানিমূলক মন্তব্য করতে দেখা যাচ্ছে। তাঁদের এই অপতৎপরতার পেছনে কী ধরনের মানসিকতা কাজ করছে, তা নিয়ে একটু গভীরভাবে ভাবা প্রয়োজন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে যাঁরা কথা বলেন, তাঁদের নিয়ে যারা আজ প্রশ্ন তুলছেন, তাঁদের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী? সাধারণ মানুষ কি তা বুঝতে অক্ষম?
পুলিশের ভূমিকা ও ন্যায়বিচারের নির্মম বাস্তবতা
বিপদে উপায়ান্তর না দেখে দিশেহারা একটি পরিবার জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করল। পুলিশ অপহরণকারী ও অপহৃত ব্যক্তি উভয়কেই উদ্ধার করল। অথচ উদ্ধার-পরবর্তী সময়ে থানায় আটক রাখার পরদিন দুজনকেই একই মামলায় আসামি করে সরাসরি কারাগারে পাঠানো হলো। একটু স্বাভাবিক ও মৌলিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ভেবে দেখুন তো, অপহৃত ব্যক্তির পরিবার কিংবা স্বজনেরা যদি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ পুলিশের পকেটে কিছু অর্থ গুঁজে দিতে পারতেন, তাহলে কি অপহৃত ব্যক্তিকে এভাবে কারাগারে যেতে হতো? এই নিষ্ঠুর ও নগ্ন বাস্তবতাই আজ আমাদের পুলিশ বাহিনীর একাংশের প্রকৃত চিত্র উন্মোচন করে দেয়।
সত্য প্রকাশে সাংবাদিকের সাহসী ভূমিকা
বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তারই পরিপ্রেক্ষিতে জয়নাল ভাই কোনো রাখঢাক না করে প্রকৃত সত্যকে প্রায় নগ্নভাবেই জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন। জাতি কি সাংবাদিকদের কাছে এমন সাহসী ও দায়িত্বশীল ভূমিকাই প্রত্যাশা করে না?
ধর্মীয় দৃষ্টিতে ন্যায়পরায়ণতার গুরুত্ব
পবিত্র আল-কুরআনের সূরা আন-নিসার ১৩৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা মানবজাতিকে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার যে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন, তার মর্মার্থ হলো, অন্যায়কারী নিজের পিতা-মাতা কিংবা নিকটাত্মীয় হলেও ন্যায়ের প্রশ্নে তাঁদের পক্ষ নেওয়ার কোনো অবকাশ নেই। অথচ পবিত্র এই বিধান ও ন্যায়বিচারের চিরন্তন নীতিকে উপেক্ষা করে কতিপয় ব্যক্তি আজ নগ্নভাবে অন্যায়ের পক্ষে সাফাই গেয়ে চলেছেন।
ষড়যন্ত্র ও দালালচক্রের অপচেষ্টা
প্রাতিষ্ঠানিক অপরাধ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে যখন প্রতিবাদী সাংবাদিক জয়নাল আবেদীন দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করলেন এবং যা কিছু সত্য, তা অত্যন্ত নির্ভীকচিত্তে জাতির সামনে উপস্থাপন করলেন, তখনই শুরু হলো নতুন এক ষড়যন্ত্র। সমাজকে যারা সম্পূর্ণ বিপথগামী ও মিথ্যার আবর্তে বন্দী বলে মনে করে, তারা আসলে মারাত্মক দৃষ্টিভ্রম ও উপলব্ধিগত অন্ধত্বের মধ্যে বসবাস করছে। করোনা-পরবর্তী সময়েও মাস্ক পরিধানকারী সেই কথিত দালালচক্র যেন চিরকাল নেতিবাচক অবস্থানটিকেই আঁকড়ে ধরে অন্ধের মতো পড়ে আছে। অন্যের পাপের পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে নিজেদের কপালে যে কলঙ্কের কালি লেপন করছে, তার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা বোধ হয় তাদের ধারণারও বাইরে।
সত্যের পক্ষে বৃহত্তর সাংবাদিক সমাজের অবস্থান
ইতিহাসের দৃঢ় সত্য হলো, সাহসী সাংবাদিকরা এই লড়াইয়ে কখনো একা ছিলেন না, আজও নন। তাঁদের প্রতিটি সত্য উচ্চারণের পেছনে পাহাড়সম শক্তি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে পেশাদার সাংবাদিক সমাজের বৃহত্তর অংশ, বিবেকবান গণমানুষ এবং অদম্য নৈতিকতার এক সুসংহত প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থন। ময়মনসিংহের মাঠে-ঘাটে সত্য প্রকাশের সংগ্রামে যাঁরা আজ সম্মুখসারিতে লড়ছেন, তাঁদের সম্মিলিত শক্তির প্রাচীর ভেদ করার সাধ্য এই দালালচক্রের নেই।
সাইবার চাটুকারিতা ও দালালদের প্রতি কঠোর সতর্কবার্তা
প্রতিবাদের একটি কলম থামিয়ে দেওয়ার অর্থ হলো, সমগ্র সাংবাদিক সমাজ ও গণমানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদের মুখোমুখি হওয়া। অথচ আপনারা, যাঁরা আন্ডারগ্রাউন্ডে থেকে সাইবার চাটুকারিতা ও দালালির বিনিময়ে অবৈধ উপার্জনকারীদের সন্তুষ্টি অর্জনের পর তাঁদের কাছ থেকে প্রাপ্ত সামান্য দান-খয়রাতকেই জীবিকার অবলম্বন হিসেবে গ্রহণ করেছেন, তাঁদের মনে রাখা উচিত, ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণেরও একটি সীমা রয়েছে। নিজের যোগ্যতা ও অবস্থানের পরিধি বুঝে চাটুকারিতা করুন। কেননা, আপনাদের কাঁধের ওপর বসে থাকা ফেরেশতারা ছাড়াও রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল গোয়েন্দা সংস্থা ও নীতিনির্ধারক মহল আপনাদের প্রতিটি অপকর্ম, চাটুকারিতাপূর্ণ মন্তব্য এবং দালালির হিসাব অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ ও তালিকাভুক্ত করে চলেছে। সুতরাং, অযথা অন্যের পাপের বোঝা নিজের ঘাড়ে তুলে নিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেবেন না।
ভালো কাজের স্বীকৃতি ও দ্বিমুখী মানদণ্ড
সবচেয়ে বড় কথা হলো, জয়নাল ভাই কেবল একপাক্ষিকভাবে কিংবা অন্ধ বিরোধিতার মানসিকতা থেকে সাংবাদিকতা করেন না। তিনি যখন কোনো ভালো কাজ দেখেন, তখন প্রশাসনের ইতিবাচক উদ্যোগ কিংবা সৎ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের প্রশংসা করতেও অকুণ্ঠ থাকেন। অতীতে কিংবা নিয়মিতভাবে যাঁদের ভালো কাজের প্রশংসা তিনি করে আসছেন, আজ সেই দায়িত্বশীল মহলের চোখে এই অন্যায়গুলো কেন ধরা পড়বে না? আপনারাই বা কেন এই দালালচক্রের অপতৎপরতা দেখেও অন্ধ সেজে আছেন?
ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি স্পষ্ট বার্তা ও দৃঢ় প্রতিজ্ঞা
ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, আজ যেভাবে জয়নাল ভাইকে লিখতে দেখছেন, এটি কেবল একজন ব্যক্তির প্রতিবাদ নয়। তাঁর পেছনে বিবেকবান সমাজের সম্মিলিত শক্তি সক্রিয় রয়েছে, যা আপনারা হয়তো উপলব্ধি করতে পারছেন না। অনুগ্রহ করে নিজেদের এই অন্ধত্ব ও অপকর্মের পথ পরিহার করুন, ভুলত্রুটি সংশোধন করুন এবং ন্যায়ের পথে ফিরে আসুন। সত্য বলা এবং সত্যকে টিকিয়ে রাখার এই লড়াইয়ে আমাদের অবস্থান চিরকাল আপসহীন ও অবিচল থাকবে।