নতুন মিডিয়া অনুমোদন, কোনো চ্যানেল বন্ধ নয়: তথ্য উপদেষ্টা

বিশেষ প্রতিবেদক, ঢাকা।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলমফাইল ছবি

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের নীতি হলো কোনো গণমাধ্যম বন্ধ না করা। বরং গণমাধ্যমের বাজার প্রতিযোগিতামূলক করতে নতুন করে গণমাধ্যমের অনুমোদন দেওয়া হবে।

​আজ বুধবার অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের (অ্যাটকো) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

নতুন মিডিয়ার অনুমোদন ও কারণ

​তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছরে যতগুলো টিভির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, তা রাজনৈতিকভাবে এবং পক্ষপাতের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে।

​তিনি বলেন, যেহেতু এই সরকার কোনো গণমাধ্যম বন্ধ করবে না, তাই নতুন গণমাধ্যমের অনুমোদন দেওয়া হবে। এর মূল উদ্দেশ্য:

  • ফ্যাসিবাদবিরোধী প্রজন্মকে স্পেস দেওয়া: যারা এই গণ-অভ্যুত্থান করেছে বা যারা ফ্যাসিবাদবিরোধী, নতুন গণমাধ্যমের মাধ্যমে তাদের জন্য ‘স্পেস’ বা জায়গা তৈরি করতে হবে।
  • প্রতিযোগিতা সৃষ্টি: নতুন গণমাধ্যম এলে বাজার প্রতিযোগিতামূলক হবে।

​উপদেষ্টা আরও বলেন, নতুন আইন প্রণয়ন করে অনুমোদন দিতে পারলে ভালো হতো, কিন্তু তা করতে গেলে এই পুরো ব্যবস্থার মধ্যে কখনো নতুন গণমাধ্যম আসতে পারবে না।

বেসরকারি চ্যানেলের আচরণবিধি ও ডিজিটালাইজেশন

​অ্যাটকোর প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তথ্য উপদেষ্টা বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে আহ্বান জানান:

  • আচরণবিধি (কোড অব কনডাক্ট) প্রকাশ: বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলোকে তাদের নিজস্ব আচরণবিধি প্রণয়ন করে তা জনসমক্ষে প্রকাশ করার আহ্বান জানানো হয়। এতে চ্যানেলগুলোর জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা বাড়বে।
  • কেবল টিভি ডিজিটালাইজেশন: কেবল টিভি ডিজিটালাইজ করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে স্বল্প সময়ের মধ্যে আবার সভা করা হবে। এরপর সবার মতামতের ভিত্তিতে সরকার একটি নীতিমালা প্রণয়ন করবে।
  • টিভি রেটিং পয়েন্ট (টিআরপি): টিআরপি বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং দ্রুত একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

​মতবিনিময় সভায় অ্যাটকোর পক্ষ থেকে কেবল টিভি ডিজিটালাইজেশনের জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। অ্যাটকো নেতারা জানান, বর্তমানে বেসরকারি চ্যানেলের ওপর সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ বা চাপ নেই।

​সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং অ্যাটকোর কোষাধ্যক্ষ, পরিচালকসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *