শেখ মেহেদী হাসান নাদিম

গেল সপ্তাহে শহরের একটি পরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবীণ এক শিক্ষিকা ফোনে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে কথার পিঠে নিজেই স্বীকার করে বসলেন—কয়েক দশক আগে এই ‘দৈনিক জাহান’-এর একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখেই তাঁর কর্মজীবনের শুভসূচনা হয়েছিল। আবার এই তো সেদিনের কথা, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কোনো প্রকার আর্থিক বিনিময় ব্যতিরেকেই আমার একটি দলিলের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো। সেখানে সাব-রেজিস্ট্রার সাহেব কৃতজ্ঞতা স্বীকারপূর্বক স্মৃতি রোমন্থন করে জানালেন, তাঁর চাকরির ভাইভা বোর্ডে ময়মনসিংহের পত্রিকা নিয়ে করা একমাত্র প্রশ্নটির সঠিক উত্তর তিনি দিতে পেরেছিলেন এই ‘দৈনিক জাহান’-এর নাম স্মরণ করার কারণেই।
ময়মনসিংহের আস্থার ঠিকানা ও সার্বজনীন সম্পদ
”জাহান” বিগত অর্ধ শতাব্দির বৃহত্তর ময়মনসিংহ এবং সিলেট অঞ্চলের গণ মানুষের আস্থার সবচেয়ে পুরাতন নির্ভরযোগ্য ঠিকানা।
আমি এই ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারের বর্তমান প্রতিনিধি; আমাদের পূর্বপুরুষদের হাত ধরে যার যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আগামী প্রজন্মের কাছেও একইভাবে সচল থাকবে। এটি আমার ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; আজ সুস্থ-সজ্ঞানে এই ঘোষণা পুনর্ব্যক্ত করছি যে—‘দৈনিক জাহান’ ময়মনসিংহবাসীর সার্বজনীন সম্পদ।
সাহসিকতার পরীক্ষা ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা
অন্যায়ের কাছে নতি স্বীকার করা কিংবা ক্ষমতার দাপটে পিছু হটার শিক্ষা আমাদের নেই।
সম্প্রতি এক সেনা কর্মকর্তার সাথে আলাপকালে সোজাসুজিই বলেছিলাম—“আপনাদের সাহসিকতা প্রমাণের ক্ষণ আসে কেবল যুদ্ধের ময়দানে; কিন্তু বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় আমাদের প্রতিদিন, প্রতিটি মুহূর্তে সাহসের পরীক্ষা দিতে হয়। আমরা সাহসিকতাকে সঙ্গী করেই চলি।”
কিছুদিন আগে একটি বিশেষ জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে যারা পর্দার আড়াল থেকে ফোনে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন, এই প্রেক্ষাপটেই আজ আমাকে কথাগুলো স্পষ্ট করতে হচ্ছে।
প্রবীণ শিক্ষিকার দ্বিধা ও আমাদের অবস্থান
প্রথম দিন কথা হওয়ার পরদিন আমি নিজে থেকেই উক্ত প্রবীণ শিক্ষিকাকে ফোন করে জানিয়েছিলাম—আপনারা আপনাদের বিষয়ের স্বপক্ষে প্রমাণাদিসহ লিখিত বক্তব্য পাঠান। যথাযথ প্রমাণসহ প্রাপ্ত তথ্য ‘সংবাদ’ হিসেবে প্রকাশিত হবে, আর প্রমাণের ব্যতিরেকে কেবল আপনাদের নিজস্ব বক্তব্যটুকু ‘প্রেস বিজ্ঞপ্তি’ হিসেবে ছাপা হবে।
কিন্তু উত্তর এলো—তিনি বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ছিলেন বলে এত প্রবীণ শিক্ষিকা হওয়া সত্ত্বেও বাংলায় বক্তব্য কীভাবে গুছিয়ে লিখবেন, তা নিয়ে সংশয়ে আছেন।
সত্য প্রকাশের উন্মুক্ত জানালা
আজ দেখতে দেখতে পুরো একটি সপ্তাহ পার হয়ে গেল, অথচ তাঁদের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত বক্তব্য আমাদের দপ্তরে এসে পৌঁছাল না। বিজ্ঞানের পটভূমি বা প্রকাশের ধরন নিয়ে মনে সংশয় থাকা অস্বাভাবিক নয়; তবে আমি শেষবারের মতো বলতে চাই—সত্য উপস্থাপনের জন্য কোনো জটিল সাহিত্যিক ভাষা বা অলংকারের প্রয়োজন নেই। একদম সহজ-সরল ভাষায় আপনাদের মূল বক্তব্যটুকু লিখে পাঠালে, দৈনিক জাহান তা বিন্দুমাত্র কাটছাঁট না করে অবিকল প্রকাশ করবে।
দৈনিক জাহান কোনো একক ব্যক্তির সুবিধা রক্ষার হাতিয়ার নয়—এটি ময়মনসিংহের প্রতিটি সত্যপিয়াসী মানুষের আস্থার মুক্তমঞ্চ। সত্য প্রকাশের এই উন্মুক্ত জানালা সবার জন্য সবসময় অবারিত থাকবে।