রেজাউল করিম

ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) নাহিদ পারভেজ সহ চারজনের বিরুদ্ধে এক যুবককে তুলে নিয়ে আটকে রাখা, মারধর এবং পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে গত ৫ অক্টোবর ত্রিশাল থানায় মামলাটি রুজু করা হয়।
ঘটনার বিবরণ
মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১১ জুন ত্রিশালের দরিরামপুর বাসস্ট্যান্ড ওভারব্রিজের নিচ থেকে বীররামপুর গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে নাজমুল হক-কে এসআই নাহিদ পারভেজসহ কয়েকজন জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান। পরে তাঁকে একটি সিএনজিতে করে বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে শারীরিক নির্যাতন করা হয় এবং একটি অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে তাঁকে আর জীবিত পাওয়া যাবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়।
৯৯৯-এ কল ও আইনি পদক্ষেপের প্রচেষ্টা
ভুক্তভোগীর পরিবার তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে ওই দিন রাত প্রায় ২টার দিকে ত্রিশাল থানা পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেয়। ঘটনার পরদিন থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও পরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়েও অভিযোগ করেন স্বজনরা। সেখান থেকেও প্রতিকার না পেয়ে পরিবারটি পরবর্তীতে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে আবেদন করে।
লিগ্যাল এইড অফিসের নোটিশ অনুযায়ী গত ২ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উপস্থিতির দিন ধার্য থাকলেও অভিযুক্তরা উপস্থিত না হওয়ায় বিষয়টি সেখানে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়নি।
আদালতের নির্দেশ ও মামলা রুজু
লিগ্যাল এইডে সুরাহা না পেয়ে ভুক্তভোগী পরিবার গত ২৮ সেপ্টেম্বর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে ত্রিশাল থানাকে এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এরই প্রেক্ষিতে গত ৫ অক্টোবর ত্রিশাল থানায় মামলাটি (নম্বর-৬, তারিখ: ৫ অক্টোবর ২০২৬) রুজু করা হয়। মামলায় এসআই নাহিদ পারভেজ ছাড়াও সোহেল মিয়া, ফিরোজ মাহমুদ এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি রেকর্ড করেন ত্রিশাল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. মনসুর আহমেদ এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এসআই মো. গোলাম মোস্তফা-কে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত এসআই নাহিদ পারভেজ প্রায় দুই বছর ত্রিশাল থানায় কর্মরত ছিলেন এবং ঘটনার প্রায় এক মাস আগে তাঁকে ময়মনসিংহ সদরের ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়িতে বদলি করা হয়। এ বিষয়ে অভিযুক্ত এসআই নাহিদ পারভেজসহ অন্য আসামিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।