দারিদ্র্য বাড়ছে, ঝুঁকিতে মধ্যবিত্ত; উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্ব বেশি

অর্থনীতি ডেস্ক
পাঁচ দশক ধরে দারিদ্র্য কমানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সাফল্য দেখালেও কোভিডের পর থেকে সেই ছন্দপতন ঘটেছে। গত তিন বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের প্রকৃত আয় কমেছে, তাতে বিপুলসংখ্যক মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকিতে আছে।
আজ ১৭ অক্টোবর আন্তর্জাতিক দারিদ্র্য বিমোচন দিবস এমন এক সময় পালিত হচ্ছে, যখন বিশ্বব্যাংকসহ দেশি-বিদেশি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার বৃদ্ধির কথা বলছে।
দারিদ্র্যের হার বৃদ্ধি
- পিপিআরসি’র তথ্য: বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) প্রতিবেদন অনুসারে, দেশে এখন দারিদ্র্যের হার ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ (প্রায় ২৮%)। অর্থাৎ দেশের মোট জনগোষ্ঠীর প্রতি ৪ জনে ১ জন দরিদ্র।
- এছাড়া ১৮ শতাংশ মানুষ যেকোনো সময় গরিব হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
- বিশ্বব্যাংকের তথ্য: বিশ্বব্যাংক তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে দারিদ্র্যের হার বেড়ে ২১ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়াবে।
অর্থনীতিবিদেরা মনে করছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং কয়েক বছর ধরে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ পরিস্থিতি থমকে থাকায় নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাওয়া দারিদ্র্য বেড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ। এর ফলে নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তদেরও এখন সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
অন্যান্য চ্যালেঞ্জ
- কর্মসংস্থান: দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ পরিস্থিতি থমকে থাকায় নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ কমেছে, ফলে কাজপ্রত্যাশীরা বিপাকে পড়েছেন।
- বেকারত্ব: উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হারও বেশি।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে দারিদ্র্য বিমোচনে সাফল্যের জন্য বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশে ‘শোকেস কর্মসূচি’ পালন করেছিল।
