ডেপুটি স্পিকারের উদ্যোগে নির্মিত বাঁশের সাঁকোয় স্বস্তি ফিরেছে ১৫ গ্রামের মানুষের
মো. ফখরুল আলম খসরু, কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামালের তাৎক্ষণিক উদ্যোগে নির্মিত বাঁশের সাঁকোতে স্বস্তি ফিরেছে ১৫ গ্রামের মানুষের জীবনে। নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের কৃষ্টপুর খালের ওপর নির্মিত ১৪০ ফুট দীর্ঘ ও ৫ ফুট প্রশস্ত এই বাঁশের সাঁকোটি এখন এলাকাবাসীর যাতায়াতের একমাত্র নির্ভরযোগ্য ভরসায় পরিণত হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে যাতায়াতের চরম দুর্ভোগে থাকা আমতৈল, কৃষ্টপুর, মূলগাঁও, রামনাথপুর, চারুয়ালিয়া, পাঠানপাড়া, গঙ্গারনগর, কাগজীপাড়া, ভাটিপাড়া, রানীগাঁওসহ আশপাশের ১৫টি গ্রামের মানুষ এখন নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে যাতায়াত করতে পারছেন। বিশেষ করে কোমলমতি শিক্ষার্থী, জরুরি রোগী, কৃষক ও সাধারণ পথচারীদের জন্য এই সাঁকোটি এক বড় আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সেতু ভেঙে ৩ বছরের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২৫ বছর আগে কৃষ্টপুর খালের ওপর একটি পাকা সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কোনো প্রকার সংস্কার না করায় গত তিন বছর আগে (২০২৩ সালে) সেটি সম্পূর্ণ ভেঙে খালের গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এরপর থেকেই এলাকাবাসীকে জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে নৌকা বা বুকসমান পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হতো। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগের কোনো সীমা থাকত না।
এই খাল পার হয়েই প্রতিদিন হাজারো মানুষকে জরুরি প্রয়োজনে কলমাকান্দা উপজেলা সদর ও নেত্রকোনা জেলা সদরে যাতায়াত করতে হয়। এ ছাড়া এই পথটি এলাকার বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:
- আমবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
- ধীতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
- শুনই উচ্চ বিদ্যালয়
- গুতুরা উচ্চ বিদ্যালয়
- গুতুরা দাখিল মাদ্রাসা
- রামনাথপুর দাখিল মাদ্রাসা
স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন অন্তত ১৫ হাজার মানুষ নানা প্রয়োজনে এই ঝুঁকিপূর্ণ পথটি ব্যবহার করেন।
ডেপুটি স্পিকারের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ ও কৃতজ্ঞতা
সম্প্রতি এই চরম দুর্ভোগের বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দারা নবনির্বাচিত ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নজরে আনলে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নেন এবং দ্রুত সেখানে একটি মজবুত বাঁশের সাঁকো নির্মাণের ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও অর্থায়ন করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই সাঁকোটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ায় এলাকাবাসীর মুখে হাসির ঝিলিক ফুটে উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. স্বপন খান বলেন,
“আগে ভাঙা সেতু পার হতে গিয়ে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটত। বিশেষ করে শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের নিয়ে পার হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ত। এখন নতুন করে এই সাঁকো নির্মাণ হওয়ায় আমরা অনেক স্বস্তিতে আছি। এজন্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ভাইয়ের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।”
আমবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল হান্নান বলেন,
“সেতু ভেঙে যাওয়ার পর থেকে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। বর্ষাকালে অনেকে স্কুলেই আসতে পারত না। এখন সাঁকোটি হওয়ায় শিক্ষার্থীরা নিরাপদে ও নিয়মিত ক্লাসে আসতে পারছে।”
স্থায়ী ও টেকসই সেতুর আশ্বাস
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাননীয় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন,
“দীর্ঘদিন ধরে কৃষ্টপুর খালের ওপরের সেতুটি ভেঙে পড়ে থাকায় আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল, যা সত্যিই কষ্টদায়ক। মানুষের যাতায়াতের তাৎক্ষণিক কষ্ট লাঘবের কথা বিবেচনা করে আমি সেখানে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণের ব্যবস্থা করেছি, যাতে তারা আপাতত নিরাপদে যাতায়াত করতে পারেন।”
তিনি আরও যোগ করেন,
“এখানে একটি স্থায়ী, আধুনিক ও টেকসই সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের সঙ্গে আমি ইতোমধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছি। আশা করছি, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই প্রকল্প পাস হয়ে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তির একটি স্থায়ী ও চূড়ান্ত সমাধান হবে।”
