জামালপুরে ৫৩% ভোটকেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ: অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় শঙ্কা

আনিছুর রহমান আইয়ুব, জামালপুর প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র একদিন বাকি থাকলেও জামালপুর জেলার ৫টি সংসদীয় আসনে উত্তাপ ও উদ্বেগ বাড়ছে। জেলার মোট ভোটকেন্দ্রের অর্ধেকের বেশি অর্থাৎ ৫৩.৬ শতাংশ কেন্দ্রই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৯.৬ শতাংশ কেন্দ্রকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ঝুঁকির পরিসংখ্যান

জেলা প্রশাসন ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে:

  • মোট কেন্দ্র: ৬২৩টি।
  • অধিক ঝুঁকিপূর্ণ: ১২২২টি।
  • ঝুঁকিপূর্ণ: ২১২টি।
  • সাধারণ: ২৮৯টি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জামালপুর-৫ (সদর) আসনে ঝুঁকির হার সবচেয়ে বেশি। এই আসনে ১৬১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫৫টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৭৫টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অন্যদিকে, জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনে সর্বনিম্ন ৮৮টি কেন্দ্রে ভোট হবে।

অস্ত্র উদ্ধার ও নিরাপত্তা শঙ্কা

নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের সময় আওয়ামী লীগ সরকারের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের প্রদর্শিত অবৈধ অস্ত্রগুলো এখনও উদ্ধার করা হয়নি। উদ্ধার না হওয়া এসব অস্ত্র নির্বাচনের দিন জননিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হতে পারে বলে রাজনৈতিক কর্মী ও সমর্থকরা মনে করছেন। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে।

নেতাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে শুরু হয়েছে দোষারোপের রাজনীতি:

  • ওয়ারেছ আলী মামুন (বিএনপি প্রার্থী, সদর-৫): তিনি বলেন, “জামায়াতে ইসলামীর কোনো গুপ্ত পরিকল্পনা বা স্যাবোটাজ থাকলে নির্বাচন শঙ্কিত হতে পারে। একারণেই হয়তো ঝুঁকির হার বেশি।”
  • মো. আব্দুল আওয়াল (জামায়াত প্রার্থী, সরিষাবাড়ী-৪): পাল্টা জবাবে তিনি বলেন, “বিএনপি নিজেদের পরাজয় নিশ্চিত জেনে ভিত্তিহীন শঙ্কা ছড়াচ্ছে। ফ্যাসিবাদের কায়দায় আমাদের বন্ধুপ্রতিম সংগঠনটি এখন ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

প্রশাসনের প্রস্তুতি

নিরাপত্তা প্রসঙ্গে জামালপুর জেলা পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক স্পষ্ট জানিয়েছেন, অস্ত্রবাজি বা কেন্দ্র দখলের যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. ইউসুফ আলী বলেন, “মাঠে পর্যাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, বিজিবি ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ভোটাররা যেন কোনো বাধা ছাড়াই ভোট দিতে পারেন, আমরা সে লক্ষ্যে প্রস্তুত।”

উল্লেখ্য যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জামালপুরের ৩১ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ করবেন ২১ লাখ ১২ হাজার ১৮৭ জন ভোটার।

Leave a Comment