গাজীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দুইপাশে জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন
লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক বাংলাদেশের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ পথ. রাজধানী ঢাকার সঙ্গে উত্তর-মধ্যাঞ্চলের সংযোগ রক্ষার পাশাপাশি এটি শিল্প, কৃষি, বাণিজ্য এবং শ্রমিক চলাচলের প্রধান লাইফলাইন হিসেবে কাজ করছে. কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের গাজীপুর অংশে দীর্ঘদিন ধরে চলা জলাবদ্ধতার ভয়াবহ সমস্যা এখন জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনৈতিক সংকটে রূপ নিয়েছে।
বর্তমান সংকটের চিত্র
সামান্য বৃষ্টিতেই মহাসড়কের দুইপাশ পানিতে তলিয়ে যায়, যার ফলে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয় এবং শ্রমজীবী মানুষ থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হয়. এই জলাবদ্ধতার ফলে শিল্পাঞ্চলের উৎপাদন ব্যবস্থা এবং সরবরাহ চেইন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে. পাশাপাশি জমে থাকা নোংরা পানি থেকে দুর্গন্ধ ও মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকিও তীব্র হচ্ছে.
জলাবদ্ধতার নেপথ্য কারণসমূহ
- অপরিকল্পিত নগরায়ণ: পরিকল্পনা ছাড়াই শিল্পকারখানা ও বসতবাড়ি নির্মাণ করায় প্রাকৃতিক জলাধার ও খাল-বিল ভরাট হয়ে গেছে.
- ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা: মহাসড়কের পাশে পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নেই, আর যা আছে তাও বর্জ্যে বন্ধ হয়ে থাকে।
- সমন্বয়ের অভাব: সিটি করপোরেশন, সওজ এবং স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের অভাবে স্থায়ী সমাধান আসছে না।
উত্তরণের উপায় ও বর্তমান উদ্যোগ
এই সংকট সমাধানে মহাসড়কের পাশে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ, প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ পুনরুদ্ধার এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি. সম্প্রতি ৩ মে (রবিবার) গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু শ্রীপুরের রঙিলা বাজার এলাকা পরিদর্শন করেন. তিনি জলাবদ্ধতা নিরসনে মহাসড়কের পাশে সড়ক ও জনপথের জায়গায় গড়ে ওঠা সব অবৈধ স্থাপনা, এমনকি দলীয় কার্যালয় থাকলেও তা উচ্ছেদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।
উপসংহার
একটি আধুনিক রাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক বর্ষায় তলিয়ে যাওয়া উন্নয়ন ব্যবস্থার ব্যর্থতাকেই নির্দেশ করে।এখনই রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক দক্ষতার মাধ্যমে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে যাতে ড্রেনে বর্জ্য ফেলে নিষ্কাশন পথ বন্ধ না হয়।
