খালিয়াজুরীতে গো-খাদ্যের চরম সংকট: নষ্ট খড় শুকাতে ব্যস্ত কৃষক
মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, খালিয়াজুড়ি (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

নেত্রকোনার হাওরবেষ্টিত উপজেলা খালিয়াজুরীতে ধানের দাম কম থাকার পাশাপাশি এখন গরুর খাবারের (খড়) তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে ২০২৬) দুপুরে মেন্দিপুর ইউনিয়নের বিলবিলিয়া হাওর সংলগ্ন রাস্তায় কৃষকদের ব্যাপক ব্যস্ততা দেখা যায়। অতি বৃষ্টির ফলে নষ্ট হয়ে যাওয়া ধান ও খড় শুকিয়ে গো-খাদ্য হিসেবে সংরক্ষণের শেষ চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা।
কৃষকের আর্তনাদ: “মানুষের খাবার পাওয়া যায়, গরুর খাবার নয়”
জগন্নাথপুর গ্রামের কৃষক মাইনুদ্দিন মিঠু ও মোঃ হুমায়ুন মিয়া জানান, তারা বিশাল এলাকায় বোরো চাষ করেছিলেন। কিন্তু অসময়ের বৃষ্টিতে কাটা ধান খেতেই স্তূপ করে রাখায় অধিকাংশ ধানে চারা গজিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এখন অবশিষ্ট খড় শুকাতে ব্যস্ত তারা। তাদের ভাষায়, “বাজারে মানুষের খাবার সহজে কিনতে পাওয়া গেলেও গরুর খাবার সহজে মেলে না। তাই এই পচা খড়ই আমাদের সম্বল।”
সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় ও জনপ্রতিনিধিদের উদ্বেগ
নূরপুর বোয়ালী দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওঃ মোঃ হারুন অর রশিদ জানান, টানা রোদ না হলে এবছর গো-খাদ্যের ভয়াবহ সংকট হতে পারে।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও গাজীপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ স্বাধীন এবং সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান তালুকদার কেষ্ট জানান, গো-খাদ্যের সংকটের কারণে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে পাশের মদন বা মোহনগঞ্জ বাজারে কম দামে তাদের পালিত গবাদিপশু বিক্রি করে দিচ্ছেন।
উপজেলা জামায়াতের আমীর মোঃ ইসমাইল হোসেন এই পরিস্থিতিকে ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে বর্ণনা করে মহান আল্লাহর কাছে পানাহ চেয়েছেন।
কৃষি কর্মকর্তার পর্যবেক্ষণ
খালিয়াজুড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ দেলোয়ার হোসেন জানান, উপজেলায় প্রায় ২৫ হাজার কৃষক পরিবারের জীবন এখন বিপর্যস্ত। ধানের সঠিক দাম না পাওয়া এবং গো-খাদ্যের সংকটের কারণে কৃষকরা লোকসানে গরু-ছাগল বিক্রি করে দিচ্ছেন। অনেকেই ঋণের টাকা পরিশোধের চাপ সইতে না পেরে এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং টানা রোদ হলে খড় শুকিয়ে সংকট কিছুটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
