গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ

জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার উদ্যোগে এবং সিলেট জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সহযোগিতায় জেলা পর্যায়ে আইনগত সহায়তা সম্পর্কিত সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। বুধবার বিকেলে গ্র্যান্ড সিলেট হোটেলের মিলনায়তনে
ছবি: 

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা

আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০২: ৩০

​গত বছরের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় শুরু হলেও, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং আস্থার সংকট দেশের অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলছে। নতুন অন্তর্বর্তী সরকার কিছু ক্ষেত্রে অদক্ষতা ও সিদ্ধান্তহীনতার পরিচয় দিয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা রয়েছে। একই সাথে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্যের অভাবও এই অনিশ্চয়তাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

রাজনৈতিক পটভূমি ও বর্তমান পরিস্থিতি

​গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং একটি অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেয়। এই পরিবর্তন ছাত্রদের নেতৃত্বে হলেও এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির অংশগ্রহণ ছিল। তবে, বিপ্লব বা গণ-অভ্যুত্থানের পরের ঘটনাপ্রবাহ কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলে না। এই মুহূর্তে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নির্বাচন, সাংবিধানিক সংস্কার এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্যের অভাব স্পষ্ট।

​এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে আস্থার ওপর। বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়ীরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে ভয় পান। এর ফলে, স্থানীয় বিনিয়োগের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগও কমে যাচ্ছে।

অর্থনৈতিক সূচকে নেতিবাচক প্রভাব

​রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশের অর্থনৈতিক সূচকগুলোতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (CPD)-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের অর্থনৈতিক সূচকগুলোর বেশির ভাগই এখন নিম্নমুখী। যেমন, বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি তলানিতে নেমেছে, যা নতুন বিনিয়োগের স্থবিরতাকে স্পষ্ট করে। মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতেও বড় ধরনের ধস নেমেছে।

  • বিনিয়োগ পরিস্থিতি: রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও আস্থার সংকটের কারণে দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি এখন ঝুঁকির মুখে।
  • কর্মসংস্থান: নতুন বিনিয়োগ না হলে উৎপাদন বাড়বে না এবং কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে না, যা বেকারত্বের হার আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
  • এফডিআই: দেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতেও প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) নেতিবাচক দিকে যাচ্ছে, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

ভবিষ্যতের পথ

​দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা জরুরি। গণ-অভ্যুত্থানের পর যে তরুণ প্রজন্ম পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিল, তাদের প্রত্যাশা পূরণে একটি স্থিতিশীল সরকার গঠন এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা অপরিহার্য। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত নিজেদের দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের অর্থনীতি ও জনগণের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করা। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এলে তবেই দেশের অর্থনীতিতে আস্থা ফিরে আসবে এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

বিস্তারিত জানতে আরও পড়ুন

https://cpd.org.bd/

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *