খালিয়াজুড়িতে বজ্রপাতের তাণ্ডব: পৃথক স্থানে তিনজনের করুণ মৃত্যু
মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, খালিয়াজুড়ি (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

নেত্রকোনার খালিয়াজুড়িতে কালবৈশাখী ঝড়ের সাথে বজ্রপাতে পৃথক তিনটি স্থানে তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল ২০২৬) সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন হাওর ও নদী এলাকায় এসব নিহতের ঘটনা ঘটে।
নিহতদের পরিচয় ও ঘটনার বিবরণ
১. মোঃ মোতালেব মিয়া (৫২): ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার বাইজবাগ (দায়রা কান্দি) গ্রামের বাসিন্দা। সোমবার সকালে তিনি খালিয়াজুড়ির জগন্নাথপুর ফেরী ঘাটের ধেনু নদীতে বড়শি দিয়ে মাছ ধরছিলেন। সকাল আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটের দিকে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
২. মোঃ মোনায়েম খান (৫৫): খালিয়াজুড়ি উপজেলার মেন্দিপুর ইউনিয়নের সাতগাঁও (বড়রিয়া পাড়া) গ্রামের নেকবর খানের ছেলে। দুপুর আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে গ্রামের সামনের জাংঘালিয়া হাওরে কৃষিকাজ করার সময় তিনি বজ্রপাতের শিকার হয়ে প্রাণ হারান।
৩. মোঃ শুভ মন্ডল (৩৫): সিরাজগঞ্জের সদর উপজেলার মেচরা গ্রামের আফিকুল মন্ডলের ছেলে। তিনি কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামে ধান কাটার শ্রমিক হিসেবে এসেছিলেন। দুপুর আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে ছায়ার হাওরের ‘গোঁজা’ নামক স্থানে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে তাঁর মৃত্যু হয়। কৃষ্ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান শামীম মড়ল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রশাসনের বক্তব্য ও সহযোগিতা
খালিয়াজুড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নাসির উদ্দীন জানান, একই দিনে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতদের পরিবারের কোনো আপত্তি না থাকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
খালিয়াজুড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম এই ঘটনাকে অত্যন্ত মর্মান্তিক উল্লেখ করে বলেন, “নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। সরকারি তহবিল থেকে দাফন-কাফন ও অন্যান্য সহায়তার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
