পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে ধান, পঞ্চমুখী সংকটে দিশেহারা খালিয়াজুড়ির কৃষক
মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, খালিয়াজুড়ি (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

নেত্রকোনার হাওরবেষ্টিত খালিয়াজুড়িতে আগাম বন্যা ও অতিবৃষ্টির কবলে পড়ে তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের কষ্টের সোনালী ফসল। বছরের শুরু থেকেই অতিবৃষ্টির ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় উপজেলার ৮৯টি হাওরের ধান এখন হুমকির মুখে। শ্রমিকের চড়া মজুরি আর ধানের বাজারে দরপতনের কারণে কৃষকরা এখন চরম দিশেহারা।
কৃষকদের হাহাকার ও পঞ্চমুখী সংকট
মেন্দিপুর ইউনিয়নের জিয়াখড়া গ্রামের কৃষক মোঃ সিপন মিয়া তাঁর দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “পানিতে ধান ডুবে যাচ্ছে, বাজারে দাম নেই, শ্রমিকের সংকট, আর মাথার ওপর মহাজনের ঋণের বোঝা—এই পঞ্চমুখী সংকটে আমরা বেঁচে থেকেও মৃত।” তিনি জানান, তাঁর দুই একর জমির অর্ধেকই নষ্ট হয়ে গেছে। বাকি অর্ধেক চড়া মজুরি দিয়ে কাটলেও বৃষ্টির কারণে ধান শুকাতে পারছেন না।
অনুরূপ পরিস্থিতি নূরপুর বোয়ালী গ্রামের কৃষক আহছানুল হকেরও। তিনি জানান, ১ হাজার ২০০ টাকা দৈনিক মজুরিতে শ্রমিক দিয়ে আধা-কাঁচা ধান কাটতে হচ্ছে, অথচ বাজারে ধানের মণ মাত্র ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। এতে চাষের আসল টাকাই উঠবে না বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
কৃষি অফিসের পরিসংখ্যান
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ দেলোয়ার হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে খালিয়াজুড়িতে ২০ হাজার ২৩২ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। গত ১২ এপ্রিল সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও নেত্রকোনা-৪ আসনের বর্তমান এমপি লুৎফুজ্জামান বাবর ধান কাটা উদ্বোধন করলেও অতিবৃষ্টিতে পরিস্থিতি বদলে গেছে। কৃষি অফিসের তথ্যমতে, জলাবদ্ধতায় ইতোমধ্যে ১৭৩ হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে এবং ৭৫৬ হেক্টর জমির ধান ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত ৫১ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে।
স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস
জলাবদ্ধতা নিরসনে খালিয়াজুড়ি উপজেলা বিএনপি সভাপতি ও গাজীপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ স্বাধীন এবং সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান তালুকদার কেষ্টু জানান, নদী ও খাল খননের জন্য তারা ইতোমধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্যের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোঃ ইসমাইল হোসেন কৃষকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে পরিকল্পিত উন্নয়নের ওপর জোর দেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম বলেন, “প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। এমপি মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নদী ও খাল খননের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব কাজ সম্পন্ন হলে কৃষকরা জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে।”
