খালিয়াজুড়িতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার, লক্ষাধিক টাকার চায়না জাল জব্দ
মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, খালিয়াজুড়ি (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

নেত্রকোনার হাওরবেষ্টিত অঞ্চল খালিয়াজুড়িতে প্রজনন মৌসুমে মৎস্য নিধন বিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে আনুমানিক লক্ষাধিক টাকা মূল্যের নিষিদ্ধ চায়না জাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। আজ মঙ্গলবার (২ জুন ২০২৬) বিকেলে উপজেলার বিভিন্ন হাওরে অভিযান চালিয়ে এসব অবৈধ জাল জব্দ করা হয়।
মা মাছ রক্ষায় এক মাসের নিষেধাজ্ঞা
উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রজনন মৌসুমে ডিমওয়ালা মা মাছ ও পোনা মাছ নিধন বন্ধ করতে এবং মাছের অবাধ প্রজনন ও বংশবিস্তার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত ২৮ মে একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ওই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৯ মে থেকে আগামী ২৮ জুন ২০২৬ পর্যন্ত পুরো উপজেলা জুড়ে সব ধরনের মাছ ধরা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে প্রশাসন। নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে পুরো উপজেলা জুড়ে ব্যাপক মাইকিং ও প্রচারণাও চালানো হয়েছিল।
তিন হাওরে অভিযান, ২৫টি জাল উদ্ধার
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কিছু অসাধু মৎস্যজীবী হাওরে জাল ফেলছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ বিকেলে উপজেলার মেন্দিপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন হাওরে ঝটিকা অভিযান চালানো হয়।
অভিযান চলাকালে রসুলপুর হাওর, জগন্নাথপুর হাওর ও পেটনার হাওর থেকে পেতে রাখা অবস্থায় ২৫টি নিষিদ্ধ চায়না জাল (চায়না দুয়ারী) জব্দ করা হয়। জব্দকৃত এই জালের বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় লক্ষাধিক টাকা বলে জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ।
ইউএনও ও প্রশাসনের বক্তব্য
অভিযান শেষে খালিয়াজুড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অলিদুজ্জামান বলেন,
“হাওরের মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও ডিমওয়ালা মা মাছের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করতে সরকার মাছ ধরার ওপর এক মাসের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। আইন অমান্য করে যারা নিষিদ্ধ চায়না জাল দিয়ে পোনামাছ ধ্বংস করার চেষ্টা করবে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। জনস্বার্থে এবং দেশীয় মাছের অস্তিত্ব রক্ষায় হাওরাঞ্চলে আমাদের এই কঠোর অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।”
অভিযান পরিচালনাকালে খালিয়াজুড়ি থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) তাজুল ইসলাম তার পুলিশ বাহিনী নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত ছিলেন। এ সময় উপজেলা মৎস্য অফিসের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত থেকে জাল জব্দে সহায়তা করেন। পরবর্তীতে জব্দকৃত অবৈধ জালগুলো জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
