কোম্পানীগঞ্জ ভূমি অফিস দালালমুক্ত; প্রশংসায় ভাসছেন এসি ল্যান্ড রুবাইয়া
মোহাম্মদ উল্যা, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি

ভূমি অফিস মানেই দালালের দৌরাত্ম্য আর হয়রানি—এমন চিরচেনা চিত্র পাল্টে দিয়েছেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুবাইয়া বিনতে কাশেম। অফিসকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘দালালমুক্ত’ ঘোষণা করে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে তিনি এখন সাধারণ মানুষের প্রশংসায় ভাসছেন।
সরেজমিনে পরিবর্তনের চিত্র
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে ভূমি অফিসে গিয়ে দেখা যায়, কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সেবাগ্রহীতারা সরাসরি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলছেন। নামজারি (মিউটেশন) থেকে শুরু করে মিসকেইস—সব সেবাই মিলছে দ্রুততম সময়ে। অফিসের দেওয়ালে টাঙানো বিজ্ঞপ্তিতে দালালদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে কোনো অবৈধ লেনদেন ছাড়াই সর্বোচ্চ ২৮ দিনের মধ্যে নামজারি সম্পন্ন হচ্ছে।
অননিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স
৩৮তম বিসিএসের এই কর্মকর্তা গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর যোগদানের পর থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। গত চার মাসে তিনি হাসপাতাল, ফার্মেসি, হোটেল এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে রেকর্ড সংখ্যক ৫৫টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছেন। এছাড়া সরকারি খাল ও জমি দখলমুক্ত করতে তিনি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন।
অফিস কর্মকর্তাদের ভাষ্য
ভূমি অফিসের নামজারি সহকারী নাজিম উদ্দিন জানান, “আগে মানুষ দালালের খপ্পরে পড়ে হয়রানি হতো। এখন ফাইলের জট নেই, অনিয়ম নেই। দ্রুত সময়ে ফাইল নিষ্পত্তি হচ্ছে।” বর্তমানে সপ্তাহে একদিনের পরিবর্তে প্রায় প্রতিদিনই মিসকেইস শুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এসি ল্যান্ডের বক্তব্য
সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবাইয়া বিনতে কাশেম বলেন, “সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সেবা প্রত্যাশীরা অনলাইনে আবেদন করে সেবা নিচ্ছেন। সরকারের নির্ধারিত ফি ছাড়া বাড়তি কোনো লেনদেনের সুযোগ নেই। অবৈধ সুবিধা বঞ্চিত কিছু মানুষ বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করলেও আমি আমার নৈতিকতায় অটল থাকব। সাধারণ মানুষের জন্য ভূমি অফিসের দরজা সবসময় খোলা।”
