কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বোরো ধান কাটা-মাড়াইয়ে কৃষকদের চরম ভোগান্তি
মোস্তাফিজার রহমান (জাহাঙ্গীর), কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় চলতি মৌসুমে ইরি-বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও বৈরী আবহাওয়া, তীব্র শ্রমিক সংকট এবং বাজারে ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। ফসলের ভালো ফলনেও তাই চাষিদের মুখে হাসির বদলে লোকসানের দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে।
রেকর্ড আবাদ ও উৎপাদন খরচ
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ফুলবাড়ী উপজেলায় মোট ১০ হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবার প্রতি বিঘা জমিতে ধান আবাদ করতে বীজ, সার, সেচ ও পরিচর্যা বাবদ প্রায় ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে।
শ্রমিক সংকট ও বৈরী আবহাওয়ার হানা
একই সময়ে উপজেলার অধিকাংশ জমির ধান একসঙ্গে পেকে যাওয়ায় মাঠপর্যায়ে তীব্র শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। এই সুযোগে ধান কাটার জন্য শ্রমিকরা অতিরিক্ত মজুরি দাবি করছেন। তার ওপর অসময়ের বৈরী আবহাওয়ার কারণে দ্রুত ধান কেটে ঘরে তোলা, মাড়াই করা ও শুকানোর ক্ষেত্রে কৃষকদের প্রতিনিয়ত বাড়তি চাপ ও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত চাষিরা
উপজেলার একাধিক ভুক্তভোগী কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা দিন-রাত পরিশ্রম করে ধান আবাদ করি। খরচ যতই হোক চাষ তো করতেই হয়। কিন্তু বাজারে বর্তমানে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র সাড় ৮শ’ থেকে ৯শ’ টাকায়। এই দামে ধান বিক্রি করে উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। সরকার যদি ধানের দাম নির্ধারণ ও কৃষি যন্ত্রের সহায়তা বাড়াতো, তবে আমরা কিছুটা স্বস্তি পেতাম।”
কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ
সার্বিক বিষয়ে ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসার নিলুফা ইয়াছমিন জানান, “এবার উপজেলায় বোরো ধানের আবাদ ও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বেশ ভালো হয়েছে। কৃষকদের দ্রুত ধান কাটায় সহায়তার জন্য কম্বাইন হারভেস্টারসহ বিভিন্ন আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনা করে পাকা ধান দ্রুত কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”
