ইরাকের রাজনীতিতে যেভাবে শক্তিশালী হচ্ছেন মোকতাদা আল-সদর

ইরাকে মার্কিন আগ্রাসনের পরে গত দুই দশকে মোকতাদা আল-সদর দেশটির বিকল্প নেতা হয়ে উঠেছেনছবি: এএফপি

আল-জাজিরা।

ইরাকের জনপ্রিয় শিয়া নেতা মোকতাদা আল-সদর আগামী ১১ নভেম্বরের পার্লামেন্ট নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁর দল সদরিস্ট মুভমেন্ট নির্বাচন বর্জন করলেও, এটিকে রাজনীতি থেকে সরে যাওয়া নয়, বরং পুরোদমে শক্তি সঞ্চয় করে ফিরে আসার একটি কৌশল বলে মনে করা হচ্ছে।

​আল-সদরের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো নিজের শর্তে সরকার গঠন করা। তিনি বর্তমান সরকার পতনের অপেক্ষায় আছেন এবং এ সুযোগে সদরিস্ট মুভমেন্টকে আরও সংগঠিত করছেন, যাতে সরকার পতনের পরপরই কোনো জোট না করেই ক্ষমতায় আসা যায়।

প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ও অভিযোগ

  • প্রতিদ্বন্দ্বী জোট: মোকতাদা আল-সদরের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হলো শিয়া কো-অর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্ক (এসসিএফ), যা ইরান-সমর্থিত দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত।
  • সমালোচনা: আল-সদর অভিযোগ করেছেন যে এসসিএফ তাঁর মিত্রদের ওপর রকেট হামলা চালিয়েছে।

সরকারে ফেরার ব্যর্থ চেষ্টা

​আল-সদরের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, প্রথমে সদরিস্ট মুভমেন্টের একাংশ নির্বাচনে অংশ নিতে চেয়েছিল। আল-সদর সেই দাবিতে রাজি হলেও, দলীয় নিবন্ধনের সময়সীমা শেষ হয়ে গিয়েছিল। সময়সীমা বাড়ানোর অনুরোধ নিয়ে সদরিস্ট মুভমেন্টের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী (এসসিএফ জোটের নেতা) মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও এসসিএফ সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে। এরপরে আল-সদর নিজেই নির্বাচন বর্জনের চূড়ান্ত ডাক দেন।

ক্ষমতা-বণ্টন চুক্তির বিরোধিতা

​২০২২ সালের জুনে আল-সদর তাঁর জোটের আইনপ্রণেতাদের পার্লামেন্ট থেকে প্রত্যাহার করে নেন। এর প্রধান কারণ ছিল ‘মুহাসাসা’ (ক্ষমতা-বণ্টন চুক্তি) নামক প্রচলিত চুক্তির কারণে জাতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠনে তাঁর ব্যর্থতা।

  • মুহাসাসা: এই চুক্তির অধীনে সরকারের মন্ত্রিসভা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ জাতিগত ও সাম্প্রদায়িক অনুপাতে পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব থাকা সব দলের মধ্যে বণ্টন করা হয়।
  • আল-সদরের লক্ষ্য: তিনি মুহাসাসার বিপরীতে পার্লামেন্টে সর্বোচ্চসংখ্যক আসন জয়ের ভিত্তিতে সরকার গঠনের জাতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার ব্যবস্থা চান।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *