হোসেনপুরে কৃষিতে পোকা দমনের সহজ পদ্ধতি আলোক ফাঁদ

অযথা কীটনাশক ব্যবহার কমছে, লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা

উজ্জ্বল সরকার, হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ):

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় কৃষকদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব ‘আলোক ফাঁদ’ প্রযুক্তির ব্যবহার দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। স্থানীয় কৃষি অফিসের সহযোগিতায় বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকরা এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফসলের ক্ষতিকর পোকার উপস্থিতি নিশ্চিত করছেন। ফলে অকারণে কীটনাশক ব্যবহার কমে আসছে, কমছে কৃষি ব্যয় এবং রক্ষা পাচ্ছে পরিবেশ।

আলোক ফাঁদে উপকারিতা
আলোক ফাঁদ হলো কৃষিতে ব্যবহৃত একটি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, যা সন্ধ্যার পর আলোর প্রতি আকৃষ্ট হওয়া ক্ষতিকর পোকামাকড় শনাক্ত করতে সাহায্য করে। এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে:

ব্যয় হ্রাস: কৃষকরা জানান, আলোক ফাঁদ ব্যবহার করে কীটনাশকের প্রয়োগ অর্ধেকের বেশি কমানো সম্ভব হয়েছে।

পরিবেশ সুরক্ষা: জমির উর্বরতা নষ্টকারী বিষাক্ত রাসায়নিকের ব্যবহার কমায় মাছ ও অন্যান্য প্রাণীর জন্য হুমকি কমেছে।

সঠিক সিদ্ধান্ত: কৃষকরা এখন বুঝতে পারছেন জমিতে কোন পোকা ক্ষতিকর আর কোনটি উপকারী। অযথা সব পোকাকে মেরে ফেলা থেকে বিরত থাকছেন।

চরপুমদী গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, “আমরা আগে অন্ধভাবে কীটনাশক ব্যবহার করতাম। এখন রাতে আলোক ফাঁদ বসিয়ে দেখি কতটা পোকা আসে। বেশি পোকা পড়লে তখন ব্যবস্থা নেই, আর কম হলে অযথা ওষুধ দিই না। এতে আমাদের খরচ কমছে।”

কৃষি অফিসের উদ্যোগ

উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মুদাসিল হায়দার আলমগীর বলেন, “আলোক ফাঁদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে কৃষককে সচেতন করা। আমরা কৃষকদের বলছি—প্রথমে পোকার উপস্থিতি দেখুন, তারপর প্রয়োজন হলে ব্যবস্থা নিন।”

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ এ.কে.এম. শাহজাহান কবির বলেন, “পোকামাকড়ের বৈশিষ্ট্য হলো তারা সন্ধ্যার দিকে আলোর দিকে ধাবিত হয়। আলোক ফাঁদ বসালে কোন এলাকায় কোন ধরনের পোকা বেশি হচ্ছে তা সহজেই শনাক্ত করা যায়। আমরা চাই হোসেনপুর উপজেলার প্রতিটি ব্লকেই কৃষকরা এই প্রযুক্তি ব্যবহার করুক।”

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *